• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 25 July, 2026

মিছিলের অনুমতি দেয়নি আদালত, মহিলা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, স্কুটি চেপে কালীঘাটে

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এদিন মমতাকে হস্তবন্ধন করে ঘিরে রেখেছিলেন ডেরেক-দোলারা

মিছিলের অনুমতি দেয়নি আদালত, মহিলা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, স্কুটি চেপে কালীঘাটে

Mamata Banerjee Photo-SNS

কালীঘাট তৃণমূলের জমায়েত-মিছিলে অনুমতি দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশের অনুমতি না পেলেও শনিবার পদ্মপুকুরে তৃণমূলের জমায়েত হয়। ওই জমায়েত ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পদ্মপুকুর এলাকা। সেখানে পৌঁছন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর অনুমতি ছাড়া জমায়েতের অভিযোগে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ। এই মিছিলের অনুমতি আগে দেওয়া হলেও শেষ মুহুর্তে তা বাতিল করে দেয় পুলিশ। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং ছাত্র-যুবসমাজের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানাতে গিয়ে চরম পুলিশের হেনস্তার মুখে পড়তে হয় তৃণমূলনেত্রীকে বলে অভিযোগ।

এদিকে মিছিলের উদ্দেশে তৃণমূল কর্মীরা জড়ো হন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছতেই শুরু হয় স্লোগান। কিন্তু পুলিশ এলাকা খালি করে দিতে বললেই শুরু হয়ে যায় বাদানুবাদ। উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতেই জমায়েত ঠেকাতে পদ্মপুকুর থেকে আটক করা হয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। কুণাল, বৈশ্বানর-সহ বহু নেতাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে লালবাজার নিয়ে যাওয়া হয়। তখন পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্টের কথা শুনে মিছিল আমরা করছি না। কিন্তু পুলিশ কেন শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বাধা দিচ্ছে? মাত্র দু’ঘণ্টার কর্মসূচি। আসলে ওরা ভয় পায় আমাদের। এসবের জবাব ওদের মানুষ দেবে। আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। জুলুমবাজি করে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আমরা ছাত্রদের পাশে ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকব। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বাধ্য হয়েছেন ইস্তফা দিতে। ছাত্রদের আন্দোলনকে ভয় পেয়েছে। এই রাজ্যেও আমাদের প্রতিবাদকে ভয় পেয়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে। আমি চুপ করে থাকার লোক না।’

অন্যদিকে এখান থেকে উপাসনা চৌধুরীর স্কুটিতে চেপে কালীঘাটের বাড়িতে ফেরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা শান্তিপূর্ণভাবে শুধুমাত্র বিচার চেয়ে ছাত্র ও যুবদের প্রতি সংহতি জানাতে অবস্থান করছিল। মাঝরাতে জানাচ্ছে অনুমতি দেওয়া হবে না। কেন? তৃণমূল কি অচ্ছুৎ নাকি? এভাবে তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় নাকি?’ পদ্মপুকুর থেকে সিআইটি রোড হয়ে মৌলালি মোড় পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল। তাই দুপুর থেকেই পদ্মপুকুরে জমায়েত শুরু করেন কালীঘাট তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। দোলা সেন, কুণাল ঘোষ, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা ছিলেন সেখানে। মমতার অভিযোগ, ‘আমি যখন বেরিয়েছি, আমার ট্রাফিক সিগন্যালে লালবাতি জ্বালিয়ে আটকে দেওয়া হলো যাতে আমি যেতে না পারি। আমি হেঁটে, দৌড়ে, স্কুটারে করে পৌঁছেছি। আমাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছিল, হাত টেনে ধরেছিল! দলের পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, মাইকের তার কেটে দেওয়া হয়েছে। যা পুলিশের করার কোনও আইনি অধিকার নেই।’

তাছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এদিন মমতাকে হস্তবন্ধন করে ঘিরে রেখেছিলেন ডেরেক-দোলারা। তবে পুলিশের কাজে মমতার মেজাজ সপ্তমে ওঠে। তখন এক মহিলাকর্মীকে ধাক্কা মারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে অভিযোগ। কদিন আগেই কালীঘাটে বারুইপুরকাণ্ডের প্রতিবাদ-মিছিলে দলেরই এক কর্মীকে চড় মারতে দেখা যায় তাঁকে। এবার আবার মেজাজ হারিয়ে এক মহিলা পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেন এবং পুলিশ কর্মীদের সরিয়ে স্কুটিতে চেপে কালীঘাট পৌঁছন তৃণমূলনেত্রী। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যদি কুণাল, বৈশ্বানরকে না ছাড়ে তাহলে আমি নিজে লালবাজার যাব। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ঠিক আছে, কিন্তু এটা শুধু লোক দেখানো ব্যাপার। আসল কথা হলো, এটা ছাত্র ও যুব আন্দোলনের একটি বড় জয়। আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। আমাদের যুবসমাজের কণ্ঠরোধ করতে পারবে না।’