• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 10 September, 2026

শ্রীরামপুরে মমতার সভা ঘিরে হাইকোর্টে ফের লড়াই! সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার থাকলেও সাধারণ মানুষের অসুবিধা যাতে না হয়, তা সংগঠকদের মাথায় রাখতে হবে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘আপনাদের উদ্দেশ্য যেন সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা না হয়।’

শ্রীরামপুরে মমতার সভা ঘিরে হাইকোর্টে ফের লড়াই! সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ

File Photo

শ্রীরামপুরের মহেশ স্নান পিড়ি ময়দানে তৃণমূলের রাজনৈতিক সভা ঘিরে ফের আদালতের দরজায় রাজ্য। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর কালীঘাট তৃণমূলের জেলা শাখার সভার অনুমতি দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার বিরোধিতা করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ করল রাজ্য সরকার। বিষয়টি উল্লেখের পর শুনানির জন্য বিকেল ৩টে ৪০ মিনিটের সময় ধার্য করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্যের বক্তব্য, যে জায়গায় সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটি কোনও সরকারি বা জনসাধারণের জমি নয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তি। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার সংযোগকারী রাস্তাটিও অত্যন্ত সংকীর্ণ। ফলে সেখানে রাজনৈতিক সভা হলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আদালতে দাবি রাজ্যের।

রাজ্যের তরফে বিকল্প হিসেবে দিল্লি রোডে সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল। তবে তৃণমূলের আইনজীবীর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, দিল্লি রোড অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে সভা করা বাস্তবসম্মত নয়। মামলায় মহেশের জগন্নাথ মন্দিরের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জমির মালিক জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ সেখানে কোনও রাজনৈতিক সভা করতে দিতে চায় না।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার থাকলেও সাধারণ মানুষের অসুবিধা যাতে না হয়, তা সংগঠকদের মাথায় রাখতে হবে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘আপনাদের উদ্দেশ্য যেন সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা না হয়।’

এদিকে আদালতের বাইরে রাজ্যের পদক্ষেপ নিয়ে সরব হন তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। কল্যাণের অভিযোগ, ‘মাননীয় আদালত একটি দিক দেখছেন। এর অন্য একটি দিকও রয়েছে।’

তাঁর আরও দাবি, শ্রীরামপুরের আইসি-র ভূমিকার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এমনকী তাঁর জামাই আগে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন কল্যাণ। তাঁর অভিযোগ, কয়েকদিন পর ফের সেই মামলা তাঁর এবং দলের অন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রক্ষাকবচ বাতিল হতেই অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি ও এসটিএফ, গ্রেপ্তার সুমিত রায়

ফলে সভার অনুমতি ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার সরাসরি পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। বিকেল ৩টে ৪০ মিনিটের শুনানিতেই স্পষ্ট হবে, ১১ সেপ্টেম্বর মহেশ স্নান পিড়ি ময়দানেই তৃণমূলের সভা হবে নাকি রাজ্যের প্রস্তাবিত বিকল্প জায়গায় যেতে হবে।