• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 9 September, 2026

ভোটের মেশিনে হাত নয়, মেশিন সারানো বা বদলানোয় নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

জেলা নির্বাচন আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি মেশিন চিহ্নিত করে আলাদা করতে হবে। তৈরি করতে হবে সম্পূর্ণ তালিকা। কোন যন্ত্র কোন কেন্দ্র ও বুথের, কোন নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং বর্তমানে কোথায় রাখা রয়েছে, সবই নথিভুক্ত করতে হবে।

ভোটের মেশিনে হাত নয়, মেশিন সারানো বা বদলানোয় নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

File Photo

ভোট মিটেছে। কিন্তু ভোটযন্ত্র নিয়ে মামলা এখনও আদালতে। ফলে মামলার সঙ্গে যুক্ত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট হাত দেওয়া যাবে না। ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হলেও নয়। এমনই কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আরামবাগ (তফসিলি জাতি) লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়।

হুগলির জেলা নির্বাচন আধিকারিক আদালতে আবেদন করেছিলেন। তিনি আরামবাগে রাখা ভিভিপ্যাট এবং চুঁচুড়ার জেলা গুদামে থাকা ত্রুটিপূর্ণ ইভিএমগুলি মেরামত, পুনর্বিন্যাস এবং পরবর্তী নির্বাচনে ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন। প্রয়োজনে যন্ত্রগুলি চিহ্নিত করে অন্য নির্দিষ্ট গুদামেও সরানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, আরামবাগ কেন্দ্রের নির্বাচন নিয়ে নির্বাচনী মামলা চলছে। তখন সেই নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট ভবিষ্যতে মামলার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রয়োজনে সেগুলি ছেড়ে দেওয়া যায় না।

সেই সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে আদালত জানায়, কোনও ইভিএমকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বললেই তা সংরক্ষণের আওতার বাইরে চলে যাবে না। বরং যন্ত্রটির ত্রুটিই নির্বাচনী বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে। তাই মামলার আওতাভুক্ত ত্রুটিপূর্ণ ইভিএম ও সংরক্ষিত রাখতে হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য ভিভিপ্যাট-এর ক্ষেত্রেও।

আদালত অবশ্য সব ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখার পক্ষেও নয়। জেলা নির্বাচন আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি মেশিন চিহ্নিত করে আলাদা করতে হবে। তৈরি করতে হবে সম্পূর্ণ তালিকা। কোন যন্ত্র কোন কেন্দ্র ও বুথের, কোন নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং বর্তমানে কোথায় রাখা রয়েছে, সবই নথিভুক্ত করতে হবে।

মামলার সঙ্গে যুক্ত মেশিনগুলি খোলা, মেরামত, পরিবর্তন, খুলে ফেলা বা পরবর্তী নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে না। যতক্ষণ না আদালতের পৃথক অনুমতি মিলছে। তবে মামলার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই এমন ইভিএম ও ভিভিপ্যাট চিহ্নিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে সেগুলি ব্যবহার করতে পারবে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: শহরের একাধিক শপিং মল পরিদর্শনে দমকল, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে চলল অভিযান

মেশিন সরানোর প্রয়োজন হলে তা করা যাবে। তবে সিল, হেফাজত এবং প্রমাণ হিসেবে তার অখণ্ডতা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি, ভিডিয়োগ্রাফি এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুরক্ষাবিধিও মানতে হবে। আরামবাগের সমস্ত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট একসঙ্গে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন তাই খারিজ করেছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ নভেম্বর।