• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 8 September, 2026

‘শুধু কাগজে-কলমে নয়, রাস্তায় নামিয়ে বন্ধ করুন’, বেআইনি টোটো-রিক্সা নিয়ে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

মায়াপুর বামনপুকুর পঞ্চায়েত, পরিবহণ দপ্তরের নদীয়া জেলা শাখা, নদীয়ার পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় থানার ওসিকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। প্রথমে নথিভুক্ত এবং নথিভুক্ত নয়, এমন টোটো-রিক্সা চিহ্নিত করতে হবে। তারপর বেআইনি যান চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ করতে হবে।

‘শুধু কাগজে-কলমে নয়, রাস্তায় নামিয়ে বন্ধ করুন’, বেআইনি টোটো-রিক্সা নিয়ে কড়া বার্তা হাইকোর্টের

File Photo

মায়াপুরে বেআইনি টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ে মামলায় রাজ্যকে কড়া বার্তা কলকাতা হাইকোর্টের। বিজ্ঞপ্তি জারি করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, বাস্তবে বেআইনি টোটো-রিক্সার চলাচল বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের ‘পেপার ওয়ার্ক’-এ সন্তুষ্ট নয় আদালত।

কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার স্পষ্ট জানান, বেআইনি টোটো-রিক্সা বন্ধের নির্দেশ শুধু খাতায়-কলমে থাকলে চলবে না। রাস্তায় তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় আদালত।

নবদ্বীপের মায়াপুর ইস্কন মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি টোটো ও রিক্সার দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। মামলাকারীর অভিযোগ, ধুবুলিয়া-মায়াপুর রোডে বেআইনি টোটো-রিক্সার দাপটে সাধারণ মানুষের চলাচল কার্যত দুর্বিষহ। তৈরি হচ্ছে যানজট। সমস্যায় পড়ছে অ্যাম্বুল্যান্স-সহ জরুরি পরিষেবাও।

মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে গত ৭ আগস্ট মুখ্যসচিব বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। তাতে লাইসেন্স ছাড়া টোটো ও রিক্সা চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেও রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘শুধু বিজ্ঞপ্তি জারি করে হবে না। বেআইনি টোটো ও ই-রিক্সা বন্ধ হয়নি তো।’ আদালতে পেশ করা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নদীয়া জেলায় ১০ হাজার ৮০০-র বেশি টোটো চলাচল করে। অথচ লাইসেন্স রয়েছে মাত্র প্রায় ৪ হাজার ৫০০টির। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক টোটো এখনও নথিভুক্তির বাইরে। আদালতের মতে, একই ছবি গোটা রাজ্যেই।

এরপরেই মায়াপুর বামনপুকুর পঞ্চায়েত, পরিবহণ দপ্তরের নদীয়া জেলা শাখা, নদীয়ার পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় থানার ওসিকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। প্রথমে নথিভুক্ত এবং নথিভুক্ত নয়, এমন টোটো-রিক্সা চিহ্নিত করতে হবে। তারপর বেআইনি যান চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ করতে হবে।

আরও পড়ুন: ‘আমি তো মাছ ছাড়া…’, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে সাফ দাবি দিলীপের

আদালতের কড়া মন্তব্য, ‘মুখ্যসচিব কিছু করতে পারবেন না। শুধু পেপার ওয়ার্ক করলে হবে না।’ শুধু মায়াপুর নয়, গোটা নদীয়া জেলায় ৭ আগস্টের বিজ্ঞপ্তি কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে, তারও বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগে প্রশাসনকে জানাতে হবে, বেআইনি টোটো-রিক্সা বন্ধে বাস্তবে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে।