• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 26 August, 2026

নার্সদের পোশাকে স্বাস্থ্যদপ্তরের নয়া গাইডলাইন, সরকারি হাসপাতালে কড়া হচ্ছে নিয়ম

এই নয়া নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনওরকম অলংকার বা গয়না পরতে পারবেন না নার্সরা। বিবাহিত নার্সরা শুধুমাত্র শাঁখা-

নার্সদের পোশাকে স্বাস্থ্যদপ্তরের নয়া গাইডলাইন, সরকারি হাসপাতালে কড়া হচ্ছে নিয়ম

Swasthya Bhavan Photo-ANI

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালগুলিতে এবার নার্সদের পোশাকবিধি (ড্রেস কোড) নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। এই নির্দেশিকা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে তা সার্বিক ভাল কারণে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের ক্ষোভপ্রকাশের পর তড়িঘড়ি এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নার্স সংগঠনগুলির অবশ্য দাবি, নার্সদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নয়া নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, স্মল ক্যাপ পরতে হবে মহিলা নার্সদের। পশ্চিমবঙ্গে নার্সদের সংগঠন নার্সেস ইউনিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘নয়া নির্দেশিকায় হাসপাতালের স্টাফ নার্সদের স্মল ক্যাপ পরতে বলা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের নার্সরা কোনওদিন স্মল ক্যাপ পরতেন না। এই নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।’

স্বাস্থ্য দপ্তরের সার্কুলারে মহিলা নার্সদের জন্য ‘স্মল ক্যাপ’ পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েই আপত্তি তুলেছেন নার্সরা। নার্সেস ইউনিটির সম্পাদক ভাস্বতী মুখোপাধ্যায় জানান, সরকারি হাসপাতালের মহিলা নার্সরা আগে কখনও এমন টুপি পরেননি। করোনাভাইরাসের মহামারীর আগে নার্সরা লম্বা এবং ত্রিভূজ আকৃতির ট্র্যাডিশনাল ট্রায়াঙ্গল ক্যাপ ব্যবহার করতেন। ত্রিভূজ আকৃতির টুপিকে কখনওই ‘স্মল ক্যাপ’ বলা চলে না। তাই এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। আর নার্সদের মতামত নেওয়াও উচিত। অনেকেই ট্র্যাডিশনাল টুপির বদলে সার্জিক্যাল ক্যাপ বহাল রাখার পক্ষে সওয়াল করছেন।

এই নয়া নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনওরকম অলংকার বা গয়না পরতে পারবেন না নার্সরা। বিবাহিত নার্সরা শুধুমাত্র শাঁখা-পলা পরতে পারবেন। একইসঙ্গে ছোট্ট নাকের রিং পরতে পারবেন। আর পুরুষ নার্সদের কালো ঢাকা জুতো পরতে হবে। চুল ছোট করে ছাঁটতে হবে। রাখা যাবে না দাঁড়ি-গোঁফ। এই পোশাক বিধি এবং নয়া ফরমানে মহিলা নার্সরা খানিকটা উষ্মাপ্রকাশ করলেও পুরুষ নার্সরা তেমন কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং মেনে নিয়েছেন বলা চলে। সুতরাং সরকারি হাসপাতালে এবার থেকে নতুনভাবে মহিলা-পুরুষ নার্সদের দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাছাড়া সম্প্রতি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পরিদর্শন গিয়ে নার্সদের সঠিক পোশাক নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ওই হাসপাতালের নার্সিং সুপারিটেন্ডেন্ট সঠিক ইউনিফর্ম পরে ছিলেন না বলেই অভিযোগ ওঠে। তাতে ভর্ৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপরই তড়িঘড়ি এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ঐতিহ্যশালী চেহারাতেই ফিরতে চলেছে নার্সিং ড্রেস কোড বলে মনে করা হচ্ছে।