• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

মমতার সরকারের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের খেসারত দিল শিক্ষকরা! সুপারনিউমেরারি পদ তুলে নেওয়ায় অন্ধকারে মেধাতালিকাভুক্তরা

প্রাথমিকের শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষায় ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের চাকরি দিতে অতিরিক্ত শূন্যপদ বা ‘সুপারনিউমেরারি পোস্ট’ তৈরির

মমতার সরকারের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের খেসারত দিল শিক্ষকরা! সুপারনিউমেরারি পদ তুলে নেওয়ায় অন্ধকারে মেধাতালিকাভুক্তরা

ফাইল চিত্র।

উচ্চ-প্রাথমিকের শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষায় ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের চাকরি দিতে অতিরিক্ত শূন্যপদ বা ‘সুপারনিউমেরারি পোস্ট’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ২০২২ সালের মে মাসে শিক্ষা দফতরের তরফে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ৬,৮৬১টি অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই পরবর্তী সময়ে শুরু হয় আইনি টানাপড়েন।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া প্রসঙ্গে হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন,উচ্চ-প্রাথমিকের শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষার ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মামলা হলেও আদালতের তত্ত্বাবধানে প্রক্রিয়া এগোয়। নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে গোটা মেধাতালিকা বাতিলের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। বরং ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগের জন্যই সরকার অতিরিক্ত পদ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশন সুপারিশপত্রও দেয়।
কিন্তু অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরির পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তোলে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর একক বেঞ্চ সুপারনিউমেরারি পদ তৈরির সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অতিরিক্ত শূন্যপদে নিয়োগ করতে হলে নিয়ম মেনে নতুন শূন্যপদ ঘোষণা এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন। রাজ্য তার নির্বাহী ক্ষমতা ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে কারও অধিকার খর্ব করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছিল আদালত।
মামলা গড়ায় ডিভিশন বেঞ্চ হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সর্বোচ্চ আদালতও জানায়, কলকাতা হাই কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের উপরই বিষয়টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর নতুন সরকারই যখন মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়, তখন আরও একবার সামনে এসেছে প্রশ্ন,সরকারের তৈরি করা সিদ্ধান্তের দায় শেষ পর্যন্ত বইবেন কারা?

নবম-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগে গোটা নিয়োগ বাতিল হওয়ায় সেই নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত সুপারনিউমেরারি পদের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিন্তু উচ্চ-প্রাথমিকের শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। সেখানে মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেই তালিকা থেকেই সরকারি সিদ্ধান্তে সুপারনিউমেরারি পদে সুপারিশ করা হয়েছিল প্রার্থীদের।

ফলে এখন সরকার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলে মেধাতালিকাভুক্ত বহু প্রার্থীর ভবিষ্যৎ ফের অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। বছরের পর বছর চাকরির অপেক্ষায় থাকা, বয়স পেরিয়ে যাওয়া এবং অন্য চাকরির সুযোগ হারানোর পর তাঁদের প্রশ্ন—যে সিদ্ধান্ত তাঁরা নিজেরা নেননি, তার খেসারত কেন তাঁদের দিতে হবে?
সরকার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার। ফলে সুপারনিউমেরারি পদ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বদলের জেরে ফের নতুন আইনি লড়াই শুরু হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।