মানুষের সঙ্গে সংঘাতের জেরে বন্য হাতির চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। ফসলের ক্ষতি, বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া কিংবা মানুষের নিরাপত্তা— কোনও কারণেই ‘এলিফ্যান্ট করিডর’-এ দেওয়াল, কাঁটাতারের বেড়া বা অন্য কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা চলবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে দেশের কোথায় কোথায় হাতির স্বাভাবিক চলাচলে বাধা তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে দেশজুড়ে সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মানুষ-হাতি সংঘাত নিয়ে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ প্রেরণা বিন্দ্রার করা মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। শুনানিতে অভিযোগ ওঠে, হাতি তাড়ানোর নামে আগুনের গোলা, জ্বলন্ত মশাল এবং ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘হুলা পার্টি’র সদস্যরা এই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেন বলে আদালতকে জানানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে তাড়া করলে হাতি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, ওড়িশা ও ছত্তিসগড়ের হাতি করিডরে দেওয়াল তৈরির বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, হাতির চলাচলের পথ কোনও একটি রাজ্যের সীমানায় আটকে থাকে না। ফলে একটি রাজ্যে তৈরি করা বাধা অন্য রাজ্যের করিডরকেও প্রভাবিত করতে পারে।
কেন্দ্র জানায়, ২০২৩-এ এলিফ্যান্ট করিডর নিয়ে পরিদর্শনের পর স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজন হলে নতুন করে সমীক্ষা করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, নতুন রিপোর্টে দেশের কোথায় কী ধরনের বাধা রয়েছে, পাশাপাশি হাতি তাড়াতে আগুন বা ‘হুলা পার্টি’র মতো বিপজ্জনক পদ্ধতি বন্ধে রাজ্যগুলি কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে। আদালতের বার্তা স্পষ্ট — মানুষের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার সমস্যা বাস্তব, কিন্তু তার সমাধান হাতির পথ আটকে নয়। বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতেই হবে।




