সভা-মিছিল বা প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দিতে গিয়ে বার বার শেষ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । শুক্রবার অনুমতি না দেওয়ার জেরে প্রতি সপ্তাহান্তে আদালতকে (Calcutta High Court) শনিবার বসতে হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি।
শুনানিতে আদালতের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণ, ‘শুক্রবার নিয়মিত অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তার জন্য শনিবার এই আদালতকে (Calcutta High Court) বসতে হচ্ছে। এটা করবেন না। এর পিছনে কোনও পরোক্ষ উদ্দেশ্য রয়েছে—আমি আপনাদের বলছি।’
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃত বেড়ে ১৩২, নিখোঁজ ২০০০
আদালত (Calcutta High Court) আরও প্রশ্ন তোলে, আবেদন যখন ৩ আগস্ট করা হয়েছিল, তখন ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায় অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হল কেন? বিচারপতির প্রশ্ন, ‘সময়টা লক্ষ্য করুন। ৩ আগস্ট আবেদন করা হয়েছিল। ৭ আগস্ট রাত ৮টা ৩০ মিনিটে অনুমতি বাতিল করা হল। কী হচ্ছে? তার আগেই আপনারা নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছেন।’
আদালতের (Calcutta High Court) বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য-নথি প্রশাসনের হাতে আগে থেকেই ছিল। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে এত দেরি হওয়ার কোনও কারণ নেই। আদালত মনে করে, সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শেষ মুহূর্তে আদালতের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হত না। প্রসঙ্গত, মিছিল-সভা নিয়ে অনুমতি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে সপ্তাহান্তে কলকাতা হাই কোর্টকে শুনানি করতে হয়েছে। এ দিনও সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে শুনানিতে।
আরও পড়ুন: শাবককে খুঁজতে লোকালয়ে ঢুকে মৃত্যু গন্ডারের, চাঞ্চল্য ফালাকাটায়
অন্য দিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে (Calcutta High Court) দাবি করেন, আবেদনে বেশ কিছু তথ্য গোপন করা হয়েছিল। পিটিশনে দেওয়া বক্তব্যও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘যে তথ্যগুলি গোপন করা হয়েছিল, সেগুলি আদালতকে (Calcutta High Court) খুঁজে বার করতে হয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, কর্মদিবসে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিয়ে কর্মসূচি করা বাস্তবে সম্ভব নয়।
তবে প্রশাসনের যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে আদালত (Calcutta High Court) মূলত অনুমতি প্রত্যাখ্যানের সময় ও পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তোলে। আদালতের (Calcutta High Court) বার্তা, রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অনুমতির ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে আদালতকে (Calcutta High Court) বার বার জরুরি শুনানিতে বসানোর পরিস্থিতি তৈরি করা কোনও ভাবেই কাম্য নয়।




