ইউপিআই পরিষেবার মাশুল নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বড়সড় বার্তা দিল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। ২০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেন এবং রুপে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত মাশুল নেওয়া যাবে না। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই লেনদেনের উপর কোনও মাশুল ধার্য করতে পারবে না।
অর্থাৎ, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২০০০ টাকা পর্যন্ত টাকা পাঠালে আলাদা করে কোনও লেনদেন ফি দিতে হবে না গ্রাহককে। একই নিয়ম প্রযোজ্য রুপে ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রেও। ফলে আপাতত এই সীমার মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে বাড়তি খরচের আশঙ্কা নেই।
তবে প্রশ্ন উঠছে ২০০০ টাকার বেশি লেনদেন নিয়ে। ২০০০ টাকা পেরোলেই ইউপিআই ব্যবহারের জন্য গ্রাহককে মাশুল দিতে হবে— এমন কোনও ঘোষণা এখনও করেনি কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির অর্থও তা নয়। বরং নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পেমেন্টের ক্ষেত্রে মাশুল সংক্রান্ত আইনি কাঠামো স্পষ্ট করাই এই বিজ্ঞপ্তির মূল বিষয়।
সরকারের আগের বক্তব্যে অবশ্য ভবিষ্যতে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর চালুর সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। নির্দিষ্ট সীমার বেশি কিছু ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মাশুল প্রযোজ্য হতে পারে। তবে একই সঙ্গে গ্রাহকের কাছ থেকে সরাসরি ইউপিআই লেনদেনের ফি নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে ২০০০ টাকা কোনও নতুন সর্বোচ্চ সীমা নয়, যার উপরে গেলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
ইউপিআই ব্যবস্থার বিপুল বিস্তারের সঙ্গে বাড়ছে পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা খরচও। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআই ব্যবস্থায় সক্রিয় ব্যাঙ্কের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪টি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪১-এ। একই মাসে ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা পৌঁছেছে রেকর্ড ২,৩৬৬ কোটিতে।
এই বিপুল লেনদেনের চাপ সামলাতে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা এবং অনলাইন জালিয়াতি রোধে ক্রমশ বাড়ছে ব্যয়ের প্রয়োজন। ইউপিআই যত বড় হচ্ছে, ব্যবস্থাটিকে দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখতে কার্যকর রাজস্ব মডেলের প্রয়োজনীয়তাও ততই সামনে আসছে।
সেই জায়গা থেকেই এমডিআর নিয়ে আলোচনা। সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সীমার বেশি নির্বাচিত ব্যবসায়িক লেনদেনে নামমাত্র এমডিআর বসানো হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্ভাব্য হার ০.২৫ শতাংশ থেকে ০.৪ শতাংশের মধ্যে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এমন কোনও হার ঘোষণা করা হয়নি।
এমডিআর চালু হলেও তার অর্থ এই নয় যে ইউপিআই ব্যবহার করলেই গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হবে। বরং মাশুলের কাঠামো কার্যকর হলে ব্যবসায়ী, ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট পরিষেবা ব্যবস্থার মধ্যে তার দায় কী ভাবে ভাগ হবে, সেটিই হবে পরবর্তী প্রশ্ন। তাই আপাতত ২০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেন করলেই গ্রাহককে বাধ্যতামূলক ভাবে মাশুল দিতে হবে— এমন কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত নেই।




