• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 25 August, 2026

মেয়ো রোডে কাউকেই অনুমতি নয়, ২৮ আগস্ট দুই তৃণমূলের পৃথক সভায় অনুমতি হাইকোর্টের

১৮ আগস্ট পুলিশকে আবেদন করা হলেও অনুমতি মেলেনি বলে আদালতে জানানো হয়। এর আগে ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের জেরে পৃথক জায়গায় কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিল আদালত।

মেয়ো রোডে কাউকেই অনুমতি নয়, ২৮ আগস্ট দুই তৃণমূলের পৃথক সভায় অনুমতি হাইকোর্টের

Photo: Statesman

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছল কলকাতা হাইকোর্টে। একই দিনে, একই সময়ে পৃথক কর্মসূচি ঘিরে কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের মধ্যে তুমুল টানাপোড়েন। তবে ‘কে আসল, কে নকল’ এই রাজনৈতিক বিতর্কে ঢুকতে নারাজ আদালত।

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট বলেন, “কে আসল, কে নকল, তা আমার জানার দরকার নেই। বাইরে যা করার করুন।” আদালত জানায়, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে আদালত ঢুকতে চায় না। দুই পক্ষ একই জায়গায় কর্মসূচি করতে চাইলে যৌথ কর্মসূচির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে আবেদনকারীরা কেউই রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালত মেয়ো রোডে কাউকেই সভা করার অনুমতি দেয়নি।

২৮ আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এক পক্ষ বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত কর্মসূচি করার অনুমতি পেয়েছে। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন জমায়েত করার অনুমতি পেয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল রানি রাসমণি রোডে দুপুর ১২টা থেকে ২টো পর্যন্ত কর্মসূচি করবে। সেখানে প্রায় ১ হাজার জনের জমায়েতের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

শুনানিতে রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, রানি রাসমণি রোডে ৮০০ থেকে ১ হাজার জনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। আদালতের প্রশ্ন, দুপুর ১২টা থেকে ২টো পর্যন্ত কর্মসূচি হলে রাজ্যের সমস্যা কোথায়? পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন বিচারপতি। তবে ক্যাথিড্রাল রোডের জমায়েতের ক্ষেত্রে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সতর্ক আদালত। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ২১ জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ২৮ আগস্ট কোনও ভাবেই যাতে জমায়েত ২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে না যায়,  তা নিশ্চিত করতে হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই পক্ষকেই ১৫ জন করে স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আগামী বুধবারের মধ্যে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে। কর্মসূচি ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার দায়িত্বও দুই পক্ষের। ক্যাথিড্রাল রোড এবং রানি রাসমণি রোডে ট্রাফিক সচল রাখতে স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মামলাকারী সুদীপ রাহা ও প্রিয়াঙ্কা অধিকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই শুনানি। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে একই সময়ে একই জায়গায় সভা করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট পুলিশকে আবেদন করা হলেও অনুমতি মেলেনি বলে আদালতে জানানো হয়। এর আগে ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের জেরে পৃথক জায়গায় কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিল আদালত। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ফের আদালতের দ্বারস্থ দুই পক্ষ।

আরও পড়ুন: ১৬ মামলায় ধাক্কা, ৩-এ রক্ষাকবচ! অভিষেকের বাকি মামলায় আবেদন খারিজ হাইকোর্টের

শুনানিতে তৃণমূলের দুই শিবিরের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়। কালীঘাট তৃণমূলের দাবি, তারাই ‘আসল’ তৃণমূল। পাল্টা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের দাবি, তাঁরাই ‘আসল’ তৃণমূল। সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের বিতর্কে না গিয়ে বিচারপতির বার্তা, মাঠের রাজনৈতিক লড়াই আদালতের বিষয় নয়। শেষ পর্যন্ত ২৮ আগস্ট দুই পক্ষের কর্মসূচির জন্য পৃথক জায়গা নির্ধারণ করে নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের উপরই বহাল রাখা হল। তবে মেয়ো রোড আপাতত রইল দুই শিবিরেরই বাইরে।