অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে ঘিরে মামলায় একদিকে তাঁর প্রদর্শিত পোস্টার নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট, অন্যদিকে আপাতত গ্রেপ্তারির হাত থেকেও তাঁকে রক্ষাকবচ দিল আদালত। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানায়, সংশ্লিষ্ট পোস্টার বা কার্টুনকে নিছক ‘কার্টুন’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘এটি শুধু একটি কার্টুন নয়। বিষয়টি অত্যন্ত রুচিহীন।’ ওই পোস্টারের প্রকৃতি আদালতের বিবেককেও নাড়া দিয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।
শুনানিতে আদালত প্রশ্ন তোলে, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক কী ভাবে এমন কাজ করতে পারেন? তবে একই সঙ্গে আদালত জানায়, কোনও আচরণ রুচিহীন বা আপত্তিকর হলেই তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ফৌজদারি অপরাধ হয়ে যায় না।
শ্রীলেখার হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সহমত পোষণ করেও তিনি যুক্তি দেন, ঘটনাটি রুচিহীন হতে পারে, কিন্তু তার ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৩(২) ধারায় ফৌজদারি মামলা করা যায় না।
আইনজীবীর আরও বক্তব্য, শ্রীলেখা ইতিমধ্যেই তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়েছেন। ভবিষ্যতেও তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
তবে এই পর্যায়ে মামলা খারিজ করতে রাজি হয়নি আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এখনই মামলা খারিজ করে দিলে ভবিষ্যতে এই ধরনের আপত্তিকর কাজ উৎসাহিত হতে পারে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শালীনতার সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।
শেষ পর্যন্ত আদালত জানায়, রাজ্য তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তবে তদন্তে সহযোগিতা করলে শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতার-সহ কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
আদালতের নির্দেশ, তদন্তের প্রয়োজনে শ্রীলেখাকে হাজির হতে বলা হলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁকে নোটিস দিতে হবে। তবে তিনি তদন্তে সহযোগিতা না করলে এই সুরক্ষা তুলে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারবে রাজ্য।
পরবর্তী শুনানির দিন তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্টও আদালতে জমা দিতে হবে।
অর্থাৎ, বিতর্কিত পোস্টার নিয়ে আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, শুধুমাত্র ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে শ্রীলেখার গ্রেপ্তারির অনুমতি দেয়নি হাই কোর্ট। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শালীনতা এবং আইনের সীমারেখার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই আপাতত অভিনেত্রীকে স্বস্তি দিয়েছে আদালত।




