রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আবার সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বামফ্রন্ট আমলে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের শেষ ১০ বছরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। বৃহস্পতিবার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এভাবেই আগের বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকারকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলের সিলেবাসে তোষণের রাজনীতি, ভাষার বিকৃতি এবং পড়ুয়াদের মনে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
এদিকে গত দুই সরকারের জমানায় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা হয়েছে। কমিউনিস্টদের জমানায় বাংলা ভাষার প্রচার এবং প্রসারে বাধা পেয়েছিল। ইংরাজি ভাষাতেও তালাচাবি পড়েছিল। আর কম্পিউটার শিক্ষার উপরও বাধা দেওয়া হয়েছিল। আর তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের মধ্যে গত ১০ বছরে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা হয়েছে বলেও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরার নাম পেতে ইতিহাস বইয়ে অনেক পাতা ওল্টাতে হবে। ক্লাস ৫-৮ পর্যন্ত সিলেবাসেও বিকৃতি। আগের সরকার আর কিছুদিন থাকলে ঐতিহ্য সব হারিয়ে যেত। সঠিক সময়ে রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে।’
অন্যদিকে শিক্ষাব্যবস্থাকে দূষিত করেছে তৃণমূল। স্কুলের সিলেবাসে সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর কথা থাকলেও ছিল না শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা। অথচ জেলে যাওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল। এই শিক্ষাব্যবস্থা আর চললে রাজ্যের সংস্কার, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ হারিয়ে যেত। আকাশকে আসমান, মা’কে আম্মা করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, ‘এই রাজ্যে কমিউনিস্টরা যখন রাজত্ব করত, তারা আমাদের মাতৃভাষার প্রচার-প্রসারকে যেমন বাধা দিয়েছে, তেমনই ইংরেজি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তালাচাবি লাগিয়েছিল। কম্পিউটার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছিল। পরবর্তীকালে যে সরকার এসেছিল, প্রথমের দিকে না হলেও শেষের ১০ বছর যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিল সেটা পশ্চিমবঙ্গে আরও কিছুদিন চললে আমাদের সংস্কার, পরম্পরা, ঐতিহ্য, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ সমস্ত কিছু হারিয়ে যেত।’
তাছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, আগের সরকার পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বিভাজনের স্পষ্ট ছাপ রেখেছে। শিক্ষায় সংস্কার প্রয়োজন, দেশপ্রেম ফেরাতে না পারলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে। এখনকার সরকার পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্বাস করে না। যে শিক্ষার মধ্যে দিয়ে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে সেই শিক্ষাই সঠিক শিক্ষা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘বাংলা নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদের ভূমি। স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আর এই ভূমিতে আপনি বলবেন কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! পহেলগাম হলে মিছিল হয় না আর অপারেশন সিঁদুর হলে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করুন। এগুলি আমাদের সহ্য করতে হবে? যাদবপুরের দেওয়ালে লিখবেন ফ্রি প্যালেস্টাইন? লিখুন ফ্রি পিওকে। সমর্থন করব। ক্লাস ফাইভ থেকে এইট, মুসলমান পড়ুয়ারা স্কলারশিপ পেত, হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-খ্রিস্টান পড়ুয়ারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। শিক্ষাব্যবস্থাকে একেবারে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল। বাংলার মানুষ সঠিক সময়ে পরিবর্তন এনেছেন। না হলে এই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার কোনও তফাত থাকত না। বাংলার মানুষ পরিবর্তন ও সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় দেন। কংগ্রেসকে সময় দিয়েছেন, বামফ্রন্টকে সময় দিয়েছেন, আর গত ১৫ বছর সময় দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। তবে সঠিক সময়ে রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে বলেই আজ আমরা বেঁচে গেছি।’




