• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 3 September, 2026

রাজ্যজুড়ে খাদ্য দপ্তরের অভিযান, উদ্ধার পচা মাংস-পনির, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার

কলকাতার ট্যাংরার জনপ্রিয় 'বিগ বস' রেস্তরাঁর ফ্রিজ থেকে প্রায় ৫০০ কেজি বাসি মাছ-মাংস বাজেয়াপ্ত করেছে কলকাতা পুরসভা। পুরকর্মীদের দাবি, অস্বাস্থ্যকর ও খোলা পরিবেশে সেগুলি রাখা ছিল

রাজ্যজুড়ে খাদ্য দপ্তরের অভিযান, উদ্ধার পচা মাংস-পনির, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার

Image: Social Media

নামী রেস্তরাঁ থেকে মিষ্টির দোকান, রাজ্যজুড়ে খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর ও পুর প্রশাসনের অভিযানে একের পর এক অনিয়মের ছবি সামনে আসছে। কলকাতার ট্যাংরার জনপ্রিয় ‘বিগ বস’ রেস্তরাঁর (Big Boss Restaurant) ফ্রিজ থেকে প্রায় ৫০০ কেজি বাসি মাছ-মাংস বাজেয়াপ্ত করেছে কলকাতা পুরসভা। পুরকর্মীদের দাবি, অস্বাস্থ্যকর ও খোলা পরিবেশে সেগুলি রাখা ছিল। মাছ-মাংস কবে ফ্রিজে ঢোকানো হয়েছিল, তার কোনও লেবেল বা তারিখও ছিল না। জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সেগুলি ধাপায় পাঠানো হয়েছে (Big Boss Restaurant)।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কড়া বার্তার পরই রাজ্যজুড়ে খাবারের মান নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’। হগ মার্কেট বা নিউ মার্কেটে কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, খাবারে ক্ষতিকর রং, মাপে কারচুপি, ফ্ল্যাট জালিয়াতি-সহ অসাধু কারবারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে।

এর মধ্যেই বুধবার হুগলির দাদপুরে অভিযানে একটি হোটেলের ফ্রিজে প্লাস্টিকের প্যাকেটে রাখা মাংসে ছাতা এবং রক্তের চিহ্ন দেখতে পান আধিকারিকেরা। দু’দিন আগে মাংস কেনার দাবি করলেও কর্তৃপক্ষ কোনও রসিদ দেখাতে পারেননি। মাংস ও কাসুন্দি সসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মহেশ্বরপুরের একাধিক হোটেলে ঢাকা না দেওয়া দুধের পাত্রে মাছি পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে পচা বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি না করার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বর্ষার তাণ্ডবে হিমাচল, ৬৪ দিনে মৃত ২৫৯, বিচ্ছিন্ন ১৫০টি রাস্তা, ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১২০০ কোটি টাকা

রিষড়ার একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকানে হলুদ রঙের ভাত পরীক্ষা করে খাওয়ার অনুপযোগী রং ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এক হাঁড়ি বিরিয়ানি কর্মীদের দিয়ে নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। পুইনান বাজারে একটি কেক-পেস্ট্রি ও ফাস্ট ফুডের দোকানও বন্ধ করা হয়েছে।

ভদ্রেশ্বরের একটি বেকারিতে আগে অভিযানে দেওয়ালে ঝুল, ময়দায় মাছি-আরশোলা এবং পচা ডিম ব্যবহারের অভিযোগ মিলেছিল। পরে উৎপাদন বন্ধ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।

সল্টলেক আইবি ব্লকের একটি শপিং মলে অভিযানে একটি চাটের দোকান বন্ধ করা হয়। খাবারে অনুপযোগী রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশের কেকের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ পেস্ট্রি পাওয়া যায়। খাবার তৈরির তারিখ ও মেয়াদও উল্লেখ ছিল না। মালিককে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
বর্ধমানেও মিষ্টির দোকান, গোডাউন ও কারখানায় অভিযান চালিয়ে কালো হয়ে যাওয়া পচা পনির ও মেয়াদোত্তীর্ণ আইসক্রিম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অনুমতি না থাকায় একটি মিষ্টির কারখানা সিল করা হয়েছে। সীতাভোগ, মিহিদানা-সহ মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত ঘিয়ের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। দোকানের কর্ণধার দিলীপ ভগৎ নজরদারির অভাবের কথা স্বীকার করে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।