• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 24 August, 2026

ছ’দশকের ময়দান মার্কেটে উচ্ছেদের খাঁড়া! হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে পুনর্বাসন, প্রতিশ্রুতিতেই মিলল সমাধান

সমস্ত নাগরিক পরিষেবা পানীয় জল, বাথরুম, বিদ্যুৎ এবং মার্কেট এলাকায় যাতে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতে পারেন, সেই সমস্ত ব্যবস্থাপনাও তারা করবেন। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য নির্দিষ্ট করে কোন বিবরণীতে উল্লেখ বা স্বাক্ষর ছিল না বলেই অভিযোগ মামলাকারীদের।

ছ’দশকের ময়দান মার্কেটে উচ্ছেদের খাঁড়া! হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে পুনর্বাসন, প্রতিশ্রুতিতেই মিলল সমাধান

File photo

একটি দোকান মানে শুধু চার দেওয়াল নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের অন্ন, সন্তানের পড়াশোনা, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধ, বহু বছরের পরিশ্রম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সেই রুটিরুজির জায়গাতেই আচমকা উচ্ছেদের নোটিস। প্রায় সাত দশকের পুরনো ড. বিধানচন্দ্র রায় মার্কেটের স্টল-হোল্ডারদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পরায় নিরুপায় হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে এই ঐতিহাসিক বাজার গড়ে উঠেছিল। সেখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি, মেট্রো প্রকল্পের কাজের জন্য তাঁদের সাময়িক ভাবে অন্যত্র সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই ‘সাময়িক’ পুনর্বাসনের পর পুরনো জায়গাতেই বাজার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও একাধিক বৈঠক ও সরকারি যোগাযোগে উঠে এসেছে। এমনকী ২০২৫ সালের বৈঠকে স্থানান্তরের আগে একটি বাধ্যতামূলক মুচলেকা দেওয়ার কথাও নথিভুক্ত হয়েছিল।

ময়দান মার্কেট দোকানদার কমিটির পক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য থেকে আইনজীবী ফেরদৌস শামীম ও আইনজীবী গোপা বিশ্বাস সোমবার বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুত মুচলেকা বা মৌ স্বাক্ষর ছাড়াই ৩০ জুলাই ২০২৬-এর নোটিশে ২৬ আগস্টের মধ্যে সমস্ত স্টল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। তাঁদের আরও প্রশ্ন, দশকের পর দশক যে জায়গায় ব্যবসা করে তাঁরা সংসার চালালেন, সেখানে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়াই কি তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া যায়?

এই পরিস্থিতিতে ড.বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট স্টল হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে ওঠার কথা রয়েছে। আইনজীবী ফিরদৌস শামীম ও আইনজীবি গোপা বিশ্বাস ড.বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট স্টল হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যরাদের পক্ষে আদালতে ছ’মাস সময় দেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী ও লিখিত পুনর্বাসন-নিশ্চয়তার আবেদন জানানো হয়। সেই সঙ্গে যৌথ ভাবে স্টল-তালিকা যাচাই এবং অস্থায়ী জায়গায় প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদনও জানানো হয়।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ধর্মতলা থেকে জোকা পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের জন্য ময়দান মার্কেট অংশটিকে তারা ভেঙে ফেলতে চায়। এক্ষেত্রে যারা ময়দান মার্কেটের ব্যবসায়ী তাদের কাছাকাছি একটি জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। শুধু তাই নয়, সমস্ত নাগরিক পরিষেবা পানীয় জল, বাথরুম, বিদ্যুৎ এবং মার্কেট এলাকায় যাতে সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতে পারেন, সেই সমস্ত ব্যবস্থাপনাও তারা করবেন। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য নির্দিষ্ট করে কোন বিবরণীতে উল্লেখ বা স্বাক্ষর ছিল না বলেই অভিযোগ মামলাকারীদের।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতির নির্দেশ, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের কাজ অবশ্যই তারা করবেন। তাতে ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় মার্কেটে ব্যবসায়ীরা বিন্দুমাত্র বিরোধিতা করছেন না। তবে তাদের ব্যবসায় যাতে কোন ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেটাকেও নজর রাখতে হবে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষকে।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে মেয়ো রোড কার দখলে? হাইকোর্টের দারস্থ কালীঘাট ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ কোথায় তাদের স্থানান্তর করছে? সেখান থেকে সাধারণ ক্রেতা বা বিক্রেতা কীভাবে যাতায়াত করবেন? শুধু তাই নয়, নাগরিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয় সেটাকেও নিশ্চিত করতে হবে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষকে। এর পাশাপাশি বিচারপতি এও নির্দেশ দিয়েছেন, ধর্মতলা থেকে জোকা মেট্রো প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার পর পুনরায় ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের এই মার্কেটেই দোকান করে দিতে হবে।