যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনা নিয়ে অবশেষে তদন্তের কাজ শুরু হল। নির্ধারিত দিনেই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিশনের প্রথম বৈঠক হল। হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে প্রথমবার এই তদন্ত কমিটির বৈঠক বসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের পরিবর্তে সল্টলেক ক্যাম্পাসে বসেছে এই বৈঠক। বাম ছাত্র সংগঠনগুলির একাংশ তদন্ত কমিশনে ছাত্র প্রতিনিধি রাখার দাবি জানালেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই দাবি মেনে নেয়নি।
তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়। সদস্য হিসাবে রয়েছেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-র ডিরেক্টর অধ্যাপক সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়। উপস্থাপক কর্মকর্তা হিসাবে রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো অ্যানালিস্ট সুমন্ত জানা।
কমিটির তিন প্রতিনিধি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত উপস্থিত ছিলেন। এদিনের প্রথম বৈঠকেই তদন্তের গতিপথ এবং অভিযোগ গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। কোন কোন পক্ষের কাছ থেকে অভিযোগ নেওয়া হবে, কী ধরনের নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং কোন বিষয়গুলি তদন্তের আওতায় থাকবে, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠক শুরুর আগে বিচারপতি জানান, কমিশনের নির্ধারিত ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ অনুযায়ী প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। বিভিন্ন পক্ষের জমা দেওয়া অভিযোগ, নথি, পেপার কাটিং ও ক্লিপিংও তদন্তের আওতায় আসবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জমা দেওয়া নথির পাশাপাশি অন্য কোনও পক্ষ তথ্য বা প্রমাণ দিতে চাইলে তা গ্রহণ করে খতিয়ে দেখা হবে।
কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, তদন্তে অযথা বিলম্ব করা হবে না। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা হবে। তবে কতগুলি নথি জমা পড়ছে এবং কতজন নিজেদের বক্তব্য জানাতে চান, তার উপর তদন্তের সময়সীমা নির্ভর করবে। বিশেষ করে কীভাবে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করল, সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের তরফে কী করা সম্ভব ছিল–এই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-র ডিরেক্টর অধ্যাপক সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘যদি দরকার হয় তাহলে আমরা ক্যাম্পাসে যাব। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখব। কীভাবে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করল, কী করা যেত, আর কি না, সেসব কিছুই আমরা দেখব।’
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ডাকা পড়ুয়াদের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দুই পক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছে।
ঘটনার তদন্তে প্রথমে তিন সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করা হলেও নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন। পরে সদস্য অরুণাশিস গোস্বামীও সরে দাঁড়ান। এরপর সোমবারের বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়কে কমিশনের চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।




