• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 1 September, 2026

শহর আবর্জনা মুক্ত রাখতে কিউআর কোড ব্যবস্থা, বেআইনি কাজের জন্য ডিজিটাল জরিমানা চালু

নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মঙ্গলবার এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন

শহর আবর্জনা মুক্ত রাখতে কিউআর কোড ব্যবস্থা, বেআইনি কাজের জন্য ডিজিটাল জরিমানা চালু

Image: IANS

শহর ও তার সংলগ্ন এলাকা আবর্জনা মুক্ত রাখতে নতুন পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে বাড়ি বাড়ি আবর্জনা পৃথকীকরণ বা ‘ওয়েস্ট সেগ্রিগেশন’ নজরদারির জন্য চালু করা হল কিউআর কোডভিত্তিক ব্যবস্থা (QR code system) । একই সঙ্গে প্রকাশ্যে নোংরা করা, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বা নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের মতো বিভিন্ন অপরাধে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক জরিমানা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Paul) পাল মঙ্গলবার এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি পরিবারকে একটি করে কিউআর কোড (QR code system) দেওয়া হবে। আবর্জনা সংগ্রহের সময় পুরকর্মীরা সেই কোড স্ক্যান করে দেখতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট পরিবার ভিজে ও শুকনো আবর্জনা আলাদা করে রাখছে কি না।এই সংক্রান্ত তথ্য ও প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন: ‘সন্ত্রাসবাদে দ্বিচারিতা নয়’, এসসিও মঞ্চে পাক প্রধানমন্ত্রীকে কড়া বার্তা মোদীর, যুদ্ধ থামিয়ে শান্তির আহ্বান

ভিজে ও শুকনো আবর্জনা আলাদা করার উপর জোর

কিউআর কোডভিত্তিক (QR code system)একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করবেন পুরকর্মীরা। বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহের সময় কিউআর কোড (QR code system)স্ক্যান করে অ্যাপে তথ্য নথিভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে পুরসভাগুলি রিয়েল-টাইমে জানতে পারবে কোন পরিবার বা এলাকায় আবর্জনা পৃথকীকরণের নিয়ম ঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সচেতনতা প্রচার ও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য জরিমানা আদায় করে রাজস্ব বৃদ্ধি করা নয়। বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীল নাগরকি আচরণ গড়ে তোলা এবং স্বেচ্ছায় নিয়ম মানার প্রবণতা তৈরি করা।

কোন অপরাধে কত জরিমানা?

নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রকাশ্যে মলত্যাগ বা প্রস্রাব করা, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, বেআইনিভাবে আবর্জনা ডাম্প করা এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ব্যবহার বা বহন করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে। অন্যদিকে প্রকাশ্য থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

কীভাবে নেওয়া হবে জরিমানা?

অনুমোদিত পুরকর্মীরা কোনও নিয়মভঙ্গের ঘটনা ঘটলে তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করতে পারবেন। প্রয়োজনে জিও-ট্যাগযুক্ত ছবি তুলে প্রমাণ হিসেবে রাখা যাবে। এরপর ডিজিটাল চালান তৈরি করে কিউআর কোড (QR code system) অথবা অনলাইনে পেমেন্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হবে। জরিমানা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডিজিটাল রসিদ দেওয়া হবে।

সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ডিজিটাল বা অনলাইন পেমেন্টই জরিমানা আদায়ের প্রধান মাধ্যম হবে। তবে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ভবিষ্যতে নগদে জরিমানা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: জিডিপি বৃদ্ধি নিয়ে ভিডিও বার্তা মোদীর, রাহুলকে তোপ

সচেতনতা ও আচরণ পরিবর্তনেই জোর

নগরোন্নয়ন দপ্তর সমস্ত শহরাঞ্চলের স্থানীয় সংস্থাগুলিকে সচেতনতা প্রচারে আরও সক্রিয়া হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কর্মীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিয়ম মানতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি নিয়মভঙ্গকারীদের চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়েছে। নিয়মভঙ্গের সময় সংগ্রহ করা মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করা হতে পারে।

প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি বিন বসানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে নাগরিকদের বাড়িতেই ভিজে ও শুকনো আবর্জনা আলাদা করা, নির্দিষ্ট শৌচাগার ব্যবহার করা, সঠিক জায়গায় আবর্জনা ফেলা এবং প্রকাশ্যে থুতু না ফেলার আবেদন জানানো হয়েছে।

নতুন এই নজরদারি ও জরিমানা ব্যবস্থা সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস, ২০২৬, সুপ্রিম কোর্টে এবং জাতীয় পরিবেশ আদালত বা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশিকা মেনেই কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

দেখুন: