• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 1 September, 2026

মিড-ডে মিলের টাকা পাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়গুলি, কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী

মিড-ডে মিল জেলার স্কুলগুলিতে একটা বড় বিষয়। ছাত্রছাত্রীরা মিড-ডে মিলের খাবার খেয়েই পড়াশোনা করে তারা। সেটা যদি বন্ধ হয়ে যায়

মিড-ডে মিলের টাকা পাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়গুলি, কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী

Mid Day Meal Photo-SNS

চার মাস পর মিড-ডে মিলের প্রাপ্য টাকা পাচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাথমিক এবং উচ্চ বিদ্যালয়গুলি। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খড়গপুর গ্রামীণে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবির শেষে এই কথা জানিয়েছিলেন। তবে কথা দিয়েই শুধু থেমে থাকেননি তিনি। বরং কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর ঠিক তার পরদিনই সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানান, মিড-ডে মিল প্রকল্পের টাকা এসে গিয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই স্কুলগুলির কাছে ওই টাকা যাতে পৌঁছে যায় সেই বিষয়ে কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়েছেন জেলার সরকার পোষিত স্কুলের প্রধানশিক্ষক এবং অন্যান্যরা।

মুখ্যমন্ত্রী আগেও নানা কথা রেখেছেন। এবার সেই ধারাবাহিকতা বহাল রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। গত মে মাস থেকেই মিড-ডে মিলের বরাদ্দ টাকা পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ। টানা চার মাস ধরে ঋণ করেই মিড-ডে মিল চালাচ্ছিলেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অবিলম্বে সেই টাকা না পেলে সেপ্টেম্বর মাস থেকে মিড-ডে মিল চালানো বন্ধ হয়ে যেত। তাই বিষয়টি নজরে নিয়ে আসা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। শুভেন্দু অধিকারীকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছিলেন জেলার একাধিক স্কুলের প্রধানশিক্ষক-শিক্ষিকারা। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশের পরই নড়েচড়ে বসে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। কারণ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নিজে পদক্ষেপ নেন। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পোর্টালের একটা সমস্যা ছিল। সমাধান করা হয়েছে। চারদিন আগেই পিএম পোষণের চার মাসের টাকা এবং রাঁধুনিদের টাকা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

মিড-ডে মিল জেলার স্কুলগুলিতে একটা বড় বিষয়। ছাত্রছাত্রীরা মিড-ডে মিলের খাবার খেয়েই পড়াশোনা করে তারা। সেটা যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে খেতে পেত না পড়ুয়ারা। কলকাতা-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় এখন ইসকন খাবার দিচ্ছে। এই কথা দিয়েও রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই পশ্চিম মেদিনীপুরের স্কুলগুলির ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী কথা রাখবেন সেটাই দস্তুর। এই বিষয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলায় টাকা এসে গিয়েছে। তবে সেই টাকা স্কুলের হাতে পৌঁছতে আরও দু’একদিন সময় লাগতে পারে।

তাছাড়া এই ঘটনার কথা শুনে মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত বলেন, ‘মিড-ডে মিলের পোর্টালের সিস্টেম আপগ্রেডেশনের জন্যই টাকা পেতে দেরি হলো। মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রাখার লোক। তাই সমস্যার সমাধান হয়েছে।’ উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রাথমিকে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া পিছু মিড-ডে মিলের খরচ ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। সেই বর্ধিত টাকা আগস্ট মাস থেকে পেতে শুরু করেছে বহু স্কুল। তবে তার আগে চার মাসের বকেয়া অর্থ মেলার খবর পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন জেলার একাধিক স্কুলের প্রধানশিক্ষক-শিক্ষিকারা। মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবনের প্রধানশিক্ষক স্বামী দিব্যনিষ্ঠানন্দ মহারাজ এই বিষয়ে বলেন, ‘পড়ুয়াদের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’