• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 1 September, 2026

লর্ডসের লজ্জার পর বড় কোপ! কোচ ও সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরাল পাকিস্তান, নির্বাচক মিসবার ইস্তফা

শুধু ক্রিকেটার নয়, বদলে দেওয়া হল টেস্ট দলের কোচকেও। সরফরাজ আহমেদের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের দলের কোচ মাইক হেসনকে

লর্ডসের লজ্জার পর বড় কোপ! কোচ ও সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরাল পাকিস্তান, নির্বাচক মিসবার ইস্তফা

Photo: Representational Image

লর্ডসে ইংল্যান্ডের কাছে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হারের পরেই বড়সড় বদল পাকিস্তান দলে। সিরিজের তৃতীয় টেস্টের আগে মহম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক-সহ মোট সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শুধু ক্রিকেটার নয়, বদলে দেওয়া হল টেস্ট দলের কোচকেও (Sarfaraz Ahmed)। সরফরাজ আহমেদের (Sarfaraz Ahmed) জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের দলের কোচ মাইক হেসনকে।

কিন্তু এই খলনলচে বদলের সিদ্ধান্ত তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করেই নেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ করে নির্বাচকদের কমিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার মিসবা উল হক। বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে মন্তব্য করেছেন আর এক প্রাক্তন বাসিত আলি, যাঁর মতে, দলের মধ্যেই নেতৃত্ব নিয়ে ঝগড়াই শেষ করে দিয়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেটকে।

রিজওয়ান ও ইমাম ছাড়াও দেশে ফেরানো হয়েছে সলমন আলি আগা, আলি উসমান, আমির জামাল, মহম্মদ আওয়েস জাফর এবং খুররম শাহজাদকে। ইংল্যান্ড সফরে পর পর দুই টেস্টে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পরেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত পিসিবির। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। তার পর লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হার ১৯৪ রানে। দুই টেস্ট মিলিয়ে পাকিস্তানের কোনও ইনিংসই ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি।

আরও পড়ুন: ১৮ বছর বয়সে লাল কার্ড থেকে বিশ্বকাপ জয়, শেষটা বিশ্বকাপ ফাইনালে হার দিয়ে! মেসির ছয় স্মরণীয় অধ্যায়

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ইমামকে নিয়ে। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন ফিল্ডিং করার সময় বাঁ পায়ের কাফে চোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই চোটের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটই করতে পারেননি। কিন্তু তাঁর চোটের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। এমনকী, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তও শুরু করেছে পিসিবি। চেয়ারম্যান মহসিন নকভি একটি তদন্ত কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।

লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখান সৌদ শাকিল। হারের মুখে দাঁড়িয়েও তিনি ৯৭ রান করেছিলেন। কিন্তু দলের বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই লড়াই কোনও কাজে আসেনি। তার পরেই নির্বাচকদের কড়া সিদ্ধান্ত।

নতুন দলে একাধিক তরুণ মুখকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পিসিবি জানিয়েছে, নতুন করে দলে আসা ব্যাটার সইম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজল যথাক্রমে আটটি ও দু’টি টেস্ট খেলেছেন। বাঁহাতি স্পিনার অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস পাকিস্তানের হয়ে তিনটি এক দিনের ম্যাচ এবং চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।

পিসিবি জানিয়েছে, ‘বদলি হিসাবে দলে আসা ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাটার সইম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজল যথাক্রমে আটটি ও দু’টি টেস্ট খেলেছেন। বাঁহাতি স্পিনার অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস পাকিস্তানের হয়ে তিনটি এক দিনের ম্যাচ এবং চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে।’

এ ছাড়াও আরাফাত মিনহাস, মহম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মহম্মদ ইমরান রন্ধাওয়া এবং রজাউল্লাহর মতো আনকোরা ক্রিকেটারদের দলে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টে অভিষেকও হতে পারে। এই নতুনদের নিয়ে গড়া দল তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তানের মোকাবিলা কী করে করবে, এই নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। ব্যর্থদের শাস্তি দিতে গিয়ে আরো বড় ব্যর্থতা ডেকে আনছে না তো পাক বোর্ড? অনেকে এই আশঙ্কাও করছে।

আরও পড়ুন: ‘বাবর-শাহিনের ঝামেলাতেই পাকিস্তান ক্রিকেট শেষ’

 

পাকিস্তান ক্রিকেটে এই ডামাডোলের মধ্যেই সামনে এল এক বিস্ফোরক দাবি। পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার বাসিত আলির মতে, বাবর আজম এবং শাহিন শাহ আফ্রিদির মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া সংঘাতই পাকিস্তান ক্রিকেটের পতনের অন্যতম বড় কারণ।

ইংল্যান্ড সফরে পর পর দু’টি টেস্টে হারের পরে এমনিতেই প্রবল চাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর। তাঁর নেতৃত্বের কৌশল অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতেই বাবর ও শাহিনের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বাসিত। বাসিত বলেন, ‘বাবর আজম ভালো অধিনায়ক নন। আমি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এটা বলছি না। ও অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেটের পতনের প্রধান কারণ বাবর এবং শাহিনের মধ্যে তৈরি হওয়া ফাটল। অধিনায়কত্ব নিয়ে যখন দু’জনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, সেদিনই পাকিস্তান ক্রিকেট নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।”

এখানেই থামেননি বাসিত। তাঁর দাবি, বাবর ও শাহিনকে ঘিরে তৈরি হওয়া সেই বিভাজনের প্রভাব এখন স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘অনেক কথা বলা হয়েছিল— শাহিন খুব ভাল বোলার এবং বাবর খুব ভাল ব্যাটার। যে-ই এই ফাটল তৈরি করে থাকুক না কেন, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখন দেখা যাচ্ছে’।

গত কয়েক বছরে পাকিস্তান ক্রিকেটে নেতৃত্বের বদল যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনও বাবর, কখনও মহম্মদ রিজ়ওয়ান, কখনও শাহিন, আবার টেস্টে শান মাসুদ— একের পর এক ক্রিকেটারের হাতে উঠেছে নেতৃত্বের ব্যাটন। বাসিতের মতে, এই ঘন ঘন নেতৃত্ব বদলও দলের অস্থিরতার ছবি স্পষ্ট করে।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে শুরু হবে সিরিজ়ের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। দুই ম্যাচে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানের সামনে এখন সিরিজ হার এড়ানোর লড়াই। তার আগেই দলের একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটারকে ছেঁটে ফেলে কার্যত খোলনলচে বদলে ফেলল পাকিস্তান। কিন্তু খোলনলচে বদলে আদৌ লাভ হবে কি না, নাকি সবেচেয়ে বড় ক্ষতিটা স্বীকার করতে হবে, সেটাই এখন দেখার।

দেখুন: মোদী-জিনপিং-পুতিন একসঙ্গে, SCO Summit-এ বিশেষ মুহূর্ত