• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 1 September, 2026

১৮ বছর বয়সে লাল কার্ড থেকে বিশ্বকাপ জয়, শেষটা বিশ্বকাপ ফাইনালে হার দিয়ে! মেসির ছয় স্মরণীয় অধ্যায়

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির ২১ বছরের যাত্রা যেন এক পূর্ণাঙ্গ ছায়াছবি

১৮ বছর বয়সে লাল কার্ড থেকে বিশ্বকাপ জয়, শেষটা বিশ্বকাপ ফাইনালে হার দিয়ে! মেসির ছয় স্মরণীয় অধ্যায়

Image: IANS

শুরুটা হয়েছিল লাল কার্ড দিয়ে। শেষটা হল বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে। মাঝখানে এসেছে হাসি-কান্না, গর্ব-আনন্দ, জয়-পরাজয়, অবসর ঘোষণা, প্রত্যাবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয়ের মহাকাব্য। আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির (Lionel Messi) ২১ বছরের যাত্রা যেন এক পূর্ণাঙ্গ ছায়াছবি। সোমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন, দেশকে দেওয়ার মতো আর কিছু নেই তাঁর কাছে। এই সময়ে ফিরে তাকানো যাক আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির কেরিয়ারের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দিকে।

 

শুরুতেই লাল কার্ড

২০০৫-এ মাত্র ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক মেসির (Lionel Messi) । হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে বুডাপেস্টে সেই ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই লাল কার্ড দেখেন তিনি। রেফারি মনে করেছিলেন, মেসি (Lionel Messi) কনুই দিয়ে প্রতিপক্ষকে আঘাত করেছেন। আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শুরুটা তাই একেবারেই সুখের হয়নি। পরের বছরই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের জাত চিনিয়ে দেন তিনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিরুদ্ধে ৬-০ জয়ের ম্যাচে গোল করেন মেসি (Lionel Messi) । সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম ম্যাচ এবং প্রথম গোল। সেই দিনই শুরু হয়েছিল ফুটবল বিশ্বকাপ ও মেসির (Lionel Messi) দীর্ঘ ও মধুর সম্পর্ক।

 

আরও পড়ুন: মেসির অবসরে আবেগে ভাসল আর্জেন্টিনা, ফুটবলবিশ্ব, ‘ক্যাপ্টেন, তোমাকে খুব মিস করব’—বললেন এনজো

 

প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল

 

২০১৪। সে বছর ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি (Lionel Messi) । বার্সেলোনায় একের পর এক সাফল্যের পরেও জাতীয় দলের হয়ে তখনও বিশ্বসেরা ট্রফিটি অধরা। ২০০৬ এবং ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। ২০০৭ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও ব্রাজিলের কাছে হেরেছিলেন মেসিরা (Lionel Messi) । ব্রাজিল বিশ্বকাপেও শুরুটা ভালো হয়নি মেসিদের (Lionel Messi) । তবে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেন তিনি। পরে গোলের ধারা থামলেও দলকে নিয়ে পৌঁছে যান ফাইনালে— মারাদোনার যুগের পর প্রথম বার। কিন্তু মারাকানায় জার্মানির কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয় আর্জেন্টিনার।

 

হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন মেসি

 

২০১৪-র হতাশার পর ২০১৫ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও চিলির কাছে টাইব্রেকারে হার মানে আর্জেন্টিনা। ২০১৬ কোপা আমেরিকা সেন্টিনারিও তাই মেসির (Lionel Messi) কাছে ছিল আরও একটি সুযোগ। ফের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ফের সামনে চিলি। কিন্তু ফল বদলায়নি। টাইব্রেকারে সবাইকে অবাক করে দিয়ে পেনাল্টি মিস করেন মেসি (Lionel Messi) । ম্যাচের পর ভেঙে পড়েন। তার পরেই ঘোষণা করে দেন, ‘আমার কাছে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ। যা কিছু করার ছিল, সবই করেছি। চারটি ফাইনালে উঠেছি, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটা খুবই কষ্টের’। তবে ছ’সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলান মেসি। ফিরে আসেন জাতীয় দলে।

 

অবশেষে ট্রফি জয়

 

এর পরেই তাঁর ফুটবল জীবনের কাহিনীতে আসে টুইস্ট। ২০১৮-য় লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার পর দলের চেহারা পাল্টাতে শুরু করে। ২০২১ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের মাটিতে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। মারাকানায় অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার গোলে ব্রাজিলকে ১-০ হারিয়ে ২৮ বছর পর কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতে আর্জেন্টিনা। অবশেষে মেসির (Lionel Messi) হাতেও ওঠে বড় ট্রফি।

 

আরও পড়ুন: আর নয় আর্জেন্টিনার জার্সি! অবসরের ঘোষণা মেসির, ‘এই সিদ্ধান্ত আমাকে ভিতর থেকে খুব কষ্ট দিচ্ছে’

 

কাতারে বিশ্বসেরার মুকুট

 

তাঁর বয়স তখন ৩৫। খেলছিলেন পিএসজিতে। কিন্তু কাতারে অন্য এক মেসিকে দেখা গেল। সাত ম্যাচে সাত গোল, সঙ্গে তিনটি অ্যাসিস্ট। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মহাকাব্যিক ফাইনালে জোড়া গোল। টাইব্রেকারেও পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা— বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় বার।

বিশ্বজয়ের পর মেসি (Lionel Messi) বলেছিলেন, ‘অবশ্যই আমি এই ভাবেই নিজের কেরিয়ার শেষ করতে চেয়েছিলাম। এর চেয়ে বেশি আর কিছু চাওয়ার নেই’।২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পরেই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারতেন মেসি (Lionel Messi) । কিন্তু বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক তখনও আরও কিছু দিন খেলতে চেয়েছিলেন।

 

শেষ অধ্যায় বিশ্বকাপ ফাইনালে হার

 

২০২৪ সালে আরও এক বার কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। তার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড ষষ্ঠ বার খেলেন মেসি (Lionel Messi) । বয়স তখন ৩৯। কিন্তু বয়স তাঁর পারফরম্যান্সে কোনও ছাপ ফেলতে পারেনি। প্রথম পাঁচ ম্যাচেই করেন আট গোল। দলকে নিয়ে পৌঁছে যান আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে।

৩৪টি ম্যাচ খেলে মেসিই (Lionel Messi) বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার। বিশ্বকাপে তাঁর গোল ২১টি। তিনটি আলাদা বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা দ্বিতীয় ফুটবলারও তিনি। কিন্তু এ বার আর শেষ হাসি হাসতে পারেননি। স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। সারা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখে মেসিদের সেই ‘অসহায় আত্মসমর্পণ’। ফাইনালের কয়েকদিন পরে তাঁর বাবা-কেও হারান ফুটবলের রাজপুত্র।

এর পরেই, সোমবার, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর শেষ পরিসংখ্যান— ২০৭ ম্যাচ, ১২৫ গোল। দুই দশকেরও বেশি সময়ের সেই বর্ণময় আন্তর্জাতিক জীবনের শেষ অধ্যায় লেখা হয় ট্রফিজয়ের আনন্দ নিয়ে নয়, বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের যন্ত্রণা নিয়ে। কিন্তু তার আগে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জয়ের যে স্বপ্ন তিনি পূরণ করেছেন, তা তাঁকে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা করে রাখবে।

দেখুন: