অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন ঘিরে কালীঘাটের সংঘর্ষের ঘটনায় চারটি এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। রবিবার ধৃত মহম্মদ তৌকির আলম (৩৯), মহম্মদ এরশাদ ওরফে টিপু (৩২) এবং শ্রীদীপ দাসকে (৩৮) আদালতে পেশ করা হলে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কালীঘাট থানার ২২৮ ও ২৩০ নম্বর মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। সব মিলিয়ে শনিবার রাতের ঘটনায় চারটি এফআইআর হয়েছে।
ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর প্রথম জন্মদিন। আর সেই জন্মদিনই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির সামনে। রাত ১২টার পর অনুগামীদের জমায়েত, কেক, ফোম ও আতসবাজি নিয়ে শুরু হয়েছিল উদযাপন। কিন্তু রাত বাড়তেই পাল্টা জমায়েত ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
ভেসে আসে ‘চোর চোর’ স্লোগান। দু’পক্ষের সংঘর্ষ গড়ায় ভোর পর্যন্ত। রাত ২টো নাগাদ অভিষেকের বাড়ি ও অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন কয়েকজন পুলিশকর্মীও।
পুলিশকে চড় মারার অভিযোগে ধৃত দু’জন বিজেপি সমর্থক বলে দাবি করেছেন অভিষেক। অন্যদিকে, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক-সহ একাধিক ব্যক্তির নামেও মামলা হয়েছে।
অভিষেকের দাবি, দু’দিন ধরে এলাকায় রেইকি করার পর একদল ব্যক্তি তাঁর বাড়ি ও অফিসে হামলা চালিয়েছে। অভিযুক্তদের বিজেপির গুন্ডা বলেও আক্রমণ করেন তিনি। পুলিশের সঙ্গে বচসাতেও জড়ান সাংসদ।
শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে দফায় দফায় রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি। জন্মদিনের উদযাপন ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাত এভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিল।




