• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 7 November, 2026

শুভেন্দুকে খোঁচা দিতে গিয়ে আদানিকে চিনা সংস্থা বানাল সিপিএম! ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নেটদুনিয়ায় হাসির রোল

মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে উল্টে নেটদুনিয়ায় হাসির খোরাক সিপিএম! চিনা পণ্য কেনা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পালটা দিতে

শুভেন্দুকে খোঁচা দিতে গিয়ে আদানিকে চিনা সংস্থা বানাল সিপিএম! ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নেটদুনিয়ায় হাসির রোল

মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে উল্টে নেটদুনিয়ায় হাসির খোরাক সিপিএম! চিনা পণ্য কেনা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পালটা দিতে গিয়ে ফেসবুকে এমনই এক পোস্ট করল বাম দল, যা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পোস্টে আদানি গোষ্ঠীকে চিনা সংস্থা বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ নেটিজেনদের একাংশের। আর তা নিয়েই সমাজমাধ্যমে কটাক্ষের বন্যা। একের পর এক মন্তব্যে সিপিএমের ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি নিয়ে দলের তরফে কোনও সংশোধন বা ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। পালটা অবশ্য সিপিএমের সমর্থকদের একাংশ পোস্টের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি সাজিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত সিপিএমের ফেসবুক পেজের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে চিনা আলো কেনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য তুলে ধরে লেখা হয়েছে, ‘আগে বাপ কে গিয়ে বল, চীনের কোম্পানি না কিনতে!’ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, চিনের টুনিবাল্ব না কেনার জন্য। তাঁর যুক্তি, চিনা পণ্য কিনলে দেশের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। সেই মন্তব্যের পালটা হিসেবেই সিপিএমের এই কটাক্ষ।

পোস্টটির সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে চিনের সাংহাইয়ে আদানি গোষ্ঠীর ব্যবসা সংক্রান্ত একটি ছবি। এর মাধ্যমে মোদি সরকার ও আদানি গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে নিশানা করতে চেয়েছে সিপিএম। কিন্তু সেই পোস্টের উপস্থাপনাতেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। কারণ, ছবিটি দেখে আদানি গোষ্ঠীকেই চিনা সংস্থা বলে মনে হতে পারে। অথচ আদানি গোষ্ঠী একটি ভারতীয় সংস্থা, চিনা নয়। চিনের সাংহাইয়ে তাদের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ থাকলেই সংস্থাটির জাতীয় পরিচয় বদলে যায় না।

এই বিষয়টিই তুলে ধরে সিপিএমের পোস্টের নীচে মন্তব্য করেছেন বহু নেটিজেন। তাঁদের বক্তব্য, আদানি ভারতীয় সংস্থা, চিনা নয়। চিনে ব্যবসা করা আর চিনা সংস্থা হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে গিয়ে সিপিএম নিজেই ভুল তথ্য পরিবেশন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, সিপিএমের সমর্থকদের একাংশের পালটা যুক্তি, চিনে ব্যবসা করতে গেলে সে দেশের নিয়ম মেনে স্থানীয় সংস্থার অনুমোদন বা সহযোগিতা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, আদানি গোষ্ঠী ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য চিনের দ্বারস্থ হয়েছে, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার চিনা পণ্য বর্জনের কথা বলছে। এই দ্বিচারিতাকেই তুলে ধরতে চেয়েছে বাম দল।

তবে রাজনৈতিক কটাক্ষের লড়াইয়ে তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। আদানি গোষ্ঠীর চিনে ব্যবসা করা এবং সংস্থাটিকে চিনা বলে তুলে ধরা যে এক নয়, সেই পার্থক্যই সিপিএমের পোস্ট ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেরাই অস্বস্তিতে পড়ল বাম দল, এমনটাই বলছে নেটদুনিয়ার একাংশ।