সোমবার সকালে রাজ্য বিধানসভায় তুমুল আলোড়ন পড়ে গেল। কারণ শৌচালয় থেকে উদ্ধার হল এক কর্মীর মৃতদেহ। এটা খুন নাকি আত্মহত্যা? এই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু বিধানসভার ভিতরে ঢুকে কাউকে খুন করা তো সম্ভব নয়। তাই এই রহস্যমৃত্যুর নেপথ্য কারণ জানতে সোমবার হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হয়েছে মামলা। পুলিশ বিধানসভায় গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর। বিধানসভার শৌচাগারে মাঝবয়সী ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে ওই ব্যক্তির নাম পরিচয় জানা যায়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বয়সজনিত কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে ওই কর্মীর। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। গোটা ঘটনাটি জানানো হয়েছে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে। আপাতত ঘটনাস্থল এবং তার আশপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তির নাম উমেশচন্দ্র দাস (৪৬)। ওই ব্যক্তি বিধানসভার ক্যান্টিনে কাজ করতেন। বিধানসভার ক্যান্টিন চালায় এক ঠিকাদার সংস্থা। সেই সংস্থার হয়ে কাজ করতেন উমেশচন্দ্রর বাড়ি তিলজলায়। ১৫ বছর ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে কর্মরত ছিলেন। থাকতেন বিধানসভার ক্যান্টিনেই। রাতে সেখানেই ঘুমোতেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শৌচালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বের হননি। তখন অন্যান্য কর্মীরা শৌচালয় যেতে গিয়ে দেখেন, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি। তখন দরজা ভেঙে দেখেন, উমেশের দেহ পড়ে রয়েছে বাথরুমের মেঝেতে।
তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় বিধানসভার সচিব এবং মার্শালকে। খবর যায় হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও। হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশকর্মী এবং লালবাজারের হোমিসাইড শাখার অফিসাররা এসে তদন্ত শুরু করেন। কেমন করে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হল সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এই ঘটনায় পুলিশের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তাছাড়া বিধানসভা স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে খবর দেন মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি সবদিক খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রয়োজনে ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হবে। আপাতত যেখান থেকে দেহটি উদ্ধার হয়েছে, সেই শৌচালয় এবং তার আশপাশ কর্ডন করে রাখা হয়েছে। এখন বিধানসভায় কোনও অধিবেশন চলছে না। তাই বেশি লোকজনের যাতায়াত না থাকায় পরিবেশে খুব ব্যাঘাত ঘটেনি।




