দুর্গাপুজোর সময় সুরুচি সংঘের মণ্ডপের বাইরে শ্লীলতাহানির শিকার হলেন এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার বলে অভিযোগ। তবে এখানে অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীই। যা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই শ্লীলতাহানি করার ঘটনার একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান বাংলা ডিজিটাল) সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে শহরে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে প্রশাসন। আর অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কমলা টি-শার্ট পরে রাস্তার ধারে চেয়ারে বসে কথা বলছিলেন দুই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার। পিছনের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে তা দেখেন ওই উর্দিধারী। তিনিই মহিলা সিভিকের শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত এএসআইয়ের নাম কবিরুল হাসান মোল্লা (৫০)। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী তিন নম্বর সশস্ত্র ব্যাটালিয়নে এএসআই পদে কর্মরত। মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ দায়ের হয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। আর ২১ বছরের ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার নিউ আলিপুর পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে কবিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
১৭ অক্টোবর প্রথম সপ্তমীর দিন এই ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ কলকাতার পুজো মণ্ডপের বাইরে। ঘটনাচক্রে ওই দিনই উত্তর কলকাতায় চোরবাগান বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটে যায়। সুরুচি সংঘের বাইরে মহিলা সিভিকের শ্লীলতাহানি করার কাণ্ড রবিবার সকাল থেকেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে থাকে, কীভাবে একজন পুলিশকর্মী তাঁর অধস্তন মহিলাকর্মীর সঙ্গে এমন অভব্য আচরণ করতে পারেন? রাত ১১টা সাড়ে নাগাদ সুরুচি সংঘ পুজো মণ্ডপের বাইরে ঘটনাটি ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কমলা রঙের টি-শার্ট পরে দুই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার চেয়ারে বসে আছেন। পিছনে দাঁড়িয়ে এএসআই কবিরুল হাসান মোল্লা এক মহিলা সিভিকের শ্লীলতাহানি করছেন। তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করছেন। তখন দর্শনার্থীরা সুরুচি সংঘের ঠাকুর দেখে বেরোচ্ছেন।
তাছাড়া দু’বছর আগে আরজি কর কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত হিসাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সঞ্জয় রায়। সেও সিভিক ভলান্টিয়ার ছিল। এবার পুলিশের হাতে নিগৃহীতা হলেন এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার। তাও প্রকাশ্যে রাস্তায়। এই ঘটনা গোটা পুলিশ বাহিনীর মানসম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। বদলের বঙ্গে প্রথম থেকেই নারী নিরাপত্তার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার। নির্যাতন ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে।




