• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 19 October, 2026

সাংসদ মিতালি বাগের গাড়ি ঘিরে উঠল ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান, পড়ল ইট-পাটকেল

স্থানীয় সূত্রে খবর, শোকাহত ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সাংসদকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান

সাংসদ মিতালি বাগের গাড়ি ঘিরে উঠল ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান, পড়ল ইট-পাটকেল

MP Mitali Bag Photo-SNS

চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন মারা গিয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড়। তারপর থেকে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। এই ঘটনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে শহর থেকে গ্রামবাংলায়। কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বিরোধীরা। তবে তারপরও মানুষ রাস্তায় নামছেন। প্রতিমা দর্শন করছেন এবং অষ্টমীর অঞ্জলিও দিচ্ছেন। এই আবহে নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সাংসদ মিতালি বাগ। তৃণমূলের টিকিটে জিতে এখন এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। চোরবাগান কাণ্ডে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আরামবাগের বালিয়া গ্রাম। ওই শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েই গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মিতালি বাগ।

এদিকে শুধু বিক্ষোভে থেমে থাকেনি বিষয়টি। মিতালি বাগের গাড়ি ঘিরে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, এতদিন কোথায় ছিলেন সাংসদ? কেন আগে পরিবারের পাশে দাঁড়াননি? আসলে মিতালি বাগ দলবদল করার পর থেকে নিজের কেন্দ্রমুখী হননি। মানুষের পাশে দাঁড়াননি। রাতারাতি এই ভোলবদল মেনে নিতে পারেননি গ্রামবাসীরা। নিহতদের বাড়ি আরামবাগের মলয়পুরের বালিয়া গ্রামে। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ ওই পরিবারের সদস্যরা। ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোমবার বালিয়া গ্রামে যান আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ। আর তখনই তাঁকে শুনতে হয় গো-ব্যাক স্লোগান। তাঁর গাড়িতে পড়ে ইট-পাটকেল।

স্থানীয় সূত্রে খবর, শোকাহত ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই সাংসদকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীর একাংশ। তাঁর গাড়ি আটকে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের মূল অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনে জেতার পর থেকে এলাকায় সাংসদকে সেভাবে দেখা যায়নি। আর চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দু’দিন পেরিয়ে গিয়েছে। তারপর এলাকার সাংসদ হয়েও কেন এত দেরিতে এলেন? প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এই দুর্ঘটনার পর শোকাহত পরিবারের জন্য কী করেছেন সাংসদ? জানতে চেয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।

তাছাড়া বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন গ্রামবাসী প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? কোন মানবিকতা দেখিয়েছেন? আজ তিনদিন দেহটা এসেছে, আপনি কীভাবে সাহায্য করেছেন? আপনি তো সাংসদ। এত বড় দুর্ঘটনার পর কেন আগে পরিবারের খোঁজ নেওয়া হল না? সাংসদ হিসাবে আপনার দায়িত্ব কী ছিল?’ এরপর গ্রামবাসীদের দাবি, মঙ্গলবার চোরবাগান বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বালিয়া গ্রামে আসার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাই কালো কাচে ঢাকা গাড়িতে চেপে গ্রামে আসেন সাংসদ মিতালি বাগ। তাঁর আসার খবর পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাংসদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পরে রাস্তা ফাঁকা দেখে দ্রুত এলাকা থেকে পালান সাংসদ।