কাঁথিতে নিজের ক্লাবে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অষ্টমীর দিন সেখানে পুষ্পাঞ্জলি দেন তিনি। একই সঙ্গে নিজেকে সনাতনী এবং হিন্দু বাড়ির ছেলে বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আরশোলা এবং ছারপোকাদের থেকে সাবধান থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন রাজ্যের মণ্ডপে মণ্ডপে পুজো, অঞ্জলি, থেকে স্তোত্রপাঠ চলে। তিথি অনুযায়ী, সোমবার ভোরে মণ্ডপে মণ্ডপে হয় অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি। মহাষ্টমী এবং মহানবমীর মিলন মুহূর্তে ১০৮ পদ্ম-প্রদীপে সন্ধিপুজো হয়েছে সমারোহে। এই আবহে কাঁথিতে নিজের পাড়ার দুর্গাপুজোয় মহাষ্টমীর আরতি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাঁথির নান্দনিক ক্লাবে ধূপ-ধুনো-চামড়ে দেবীর আরতি করেন তিনি।
এদিকে সম্প্রতি রাজ্যের নানা প্রান্তে নানা ঘটনা ঘটেছে। দেশের মাটিও বেশ উত্তাল হয়েছে। এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পুজো শেষে কিছু বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। সোমবার পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া এবং আরতি করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর পুজো করি। আমি কমিউনিস্ট নই। আমি নাস্তিক নই। আমি হিন্দুবাড়ির ছেলে। সনাতনী। আমার বয়স এখন ৫৬ বছর। গত ৫০ বছর ধরে করছি। পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকে করছি। এটা আস্থার জায়গা। যাঁরা লেকচার মারছে কমিউনিস্টরা এগুলো করে না। পুষ্পাঞ্জলি দেয় না, চরণামৃত খায় না। কপালে টিকা লাগায় না। এদের থেকে সাবধানে থাকবেন।’
অন্যদিকে রাজ্যের নানা প্রান্তে বামেদের বুক স্টল ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেছেন। তার উপর চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তা নিয়েও চলছে হইচই। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী এদিন পুজো দিয়ে বার্তা দেন, ‘এই পুজোতে প্রতিবারই আসি। তাই এই বছরও এলাম। আমার এলাকার পুজো। মায়ের কাছে প্রার্থনা করলাম, আর যেন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে।’
তাছাড়া ভোট চুরির অভিযোগ দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি(সিজেপি)। দেশের তামাম বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্র্রীরা এককাট্টা হয়ে এখন বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনিভাবে এসআইআর করা হয়েছে। ভোট চুরি করে বিজেপি জেতে। তাতে সাহায্য করে নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘এই আরশোলা-ছারপোকা, যাঁদের বাপঠাকুরদা চিনে থাকে, তাঁদের থেকে সাবধানে থাকবেন। গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে এরা অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে বাংলাদেশের মতো। এদের থেকে সাবধানে থাকবেন।’




