চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় মৃত্যুমিছিল নিয়ে গোটা শহরে চর্চা শুরু হয়েছে। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার। কেউ পুজো কমিটির দিকে আঙুল তুলছেন, কেউ অভিযোগ করছেন পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে এবার আগের সরকারকেই কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ভবানী ভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিপর্যয়ের জন্য ইঙ্গিত করলেন অস্থায়ী হোমগার্ডদের। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাঁরা দড়ি ছেড়ে মণ্ডপের ভিতরে চলে যান। তার ফলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যার পরিণতি, ১৯টা প্রাণের বলি বলে মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে এই বিপর্যয়ে নিহতদের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবমী এবং দশমীর দিন তাঁদের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান তিনি।
এখন চোরবাগানের দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুমিছিল নিয়ে সবটা সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে চোরবাগানের ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছে লালবাজার। ওই এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা। এই আবহে রবিবার দুর্গাপুজোর মধ্যে দর্শনার্থীদের অসুবিধা না করে যতগুলি বাড়িতে যাওয়া সম্ভব যাবেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘আবর্জনা বইছি, তবে আর নয়। অ্যাকশন হবেই। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে সিট গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।’
ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের তালিকায় আছেন পুজো কমিটির সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি, একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও কয়েকজন। এদিন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন অস্থায়ী হোমগার্ডরা। হঠাৎই বৃষ্টি নামে। শুনছি, ভিজে যাচ্ছিলেন বলে তাঁরা নাকি দড়ি ছেড়ে ভিতরে চলে গিয়েছিলেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা। আবর্জনা বয়ে চলেছি। এবার পদক্ষেপ হবে।’ তৃণমূল আমলে অস্থায়ী হোমগার্ডদের নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই দিকেই ইঙ্গিত করলে মুখ্যমন্ত্রী বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া প্রায় ২৫ ফুট চওড়া রাস্তার ১৫ ফুটই দখল করে রেখেছিল স্টল। তাই বেরোনোর জন্য অবশিষ্ট ছিল মাত্র ১০ ফুট রাস্তা। এতটা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কীভাবে স্টল বসানোর জন্য দখল করা হল সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশ। রবিবার একের পর এক বৈঠক করার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দড়ি দিয়ে লাইন ভাগ করে রাখা ছিল। তারা হাতে ধরে ছিল সেই দড়ি। বৃষ্টির সময়ে সেই দড়ি তারা ছেড়ে দেয়। কারা সেখানে ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শহরের সমস্ত পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখবেন সিটের সদস্যরা। অন স্পট সিদ্ধান্ত নেবেন। আর ২৫ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ২০ ও ২১ অক্টোবর অর্থাৎ নবমী এবং দশমীর দিন নিহতদের বাড়ি যাব।’




