• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 10 August, 2026

পদ খোয়াতে পারেন এনসিপিআই সাংসদরা, প্যাঁচ কষে চাল দিচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল

তৃণমূল কংগ্রেস হুইপ জারি করলে চাপ বেড়ে যাবে। কারণ ওই ২০ জন সাংসদ এখনও তৃণমূলের বলেই রয়েছে খাতায়কলমে

পদ খোয়াতে পারেন এনসিপিআই সাংসদরা, প্যাঁচ কষে চাল দিচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল

20 TMC MP's Photo-SNS

বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই ২০ জন সাংসদ দলত্যাগ করে এনসিপিআই দলে যোগ দেন। তাতে ভেবেছিলেন সাংসদ পদ বেঁচে যাবে। কিন্তু দিন দিন বদলাচ্ছে পরিস্থিতি। তার জেরে স্নায়ুর চাপ বেড়েছে এনসিপিআই সাংসদদের। ইতিমধ্যেই এই ২০ জন সাংসদের নামে পৃথকভাবে কাগজপত্র স্পিকার ওম বিড়লাকে জমা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার উপর সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। তাতে রাজনৈতিক দলকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংসদ বা বিধায়ক সংখ্যাকে নয়। এই আবহে এবার প্যাঁচ কষে চাল দিতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল। আর তাতে পদ খোয়াতে পারেন এনসিপিআই সাংসদরা।

সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের নতুন দল ‘ন্যাশালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’র (এনসিপিআই) স্বীকৃতি মিলবে না বলেই একপ্রকার নিশ্চিত। নরেন্দ্র মোদীর সরকার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদারদের পৃথক দলের সদস্য বলে মেনে নিলেও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও সংসদে তাঁদের স্বীকৃতি দেননি। তাই আগামী বুধবার যদি সরকার বিতর্কিত ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট’ (এফসিআরএ) বিল পাশ করাতে চায় তখনই চাপে পড়ে যাবেন এনসিপিআই সাংসদরা। কারণ এই বিলের বিরোধিতায় ভোট দিতে তৃণমূল ‘হুইপ’ জারি করতে পারে। তাহলে বিপাকে পড়ে যাবেন বিদ্রোহীরা।

তৃণমূল কংগ্রেস হুইপ জারি করলে চাপ বেড়ে যাবে। কারণ ওই ২০ জন সাংসদ এখনও তৃণমূলের বলেই রয়েছে খাতায়কলমে। এনসিপিআই বলে নেই। হুইপ জারি করলে কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গ দিতে হবে। যা তাঁরা করবেন না। ইতিমধ্যেই তাঁরা ঘোষণা করেছেন, তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। সেক্ষেত্রে হুইপ অমান্য করলে ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের সদস্য পদ খোয়া যেতে পারে বলেই মতামত জানিয়েছেন লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল সংবিধান বিশেষজ্ঞ পি ডি টি আচারে। তিনি বলেন, ‘লোকসভা সচিবালয়ের তথ্য বলছে, তৃণমূলের লোকসভার নেতা হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁদের সদস্য সংখ্যা ২৮। তাই তার মধ্যে ২০ জন যতই বাইরে বিরোধিতা করুন না কেন, লোকসভায় তৃণমূলের হুইপ মানতে বাধ্য। অন্যথায় সদস্যপদ খোয়া যাওয়াই রুল।’ তবে এরপরও সবটাই নির্ভর করছে স্পিকার কোন পদক্ষেপ নেন।

তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং লোকসভায় দলের উপদলনেতা সৌগত রায় স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এফসিআরএ বিল কোনও মতেই সমর্থন করব না।’ বিজেপি বিরোধী সব দলই এই বিলের বিপক্ষে জানিয়ে ডেরেক প্রশ্ন তোলেন, ‘মাদার টেরিজার মিশনারিজ অফ চ্যারিটির মতো সংস্থার অনুদানের উপরও হস্তক্ষেপ করবে মোদী-শাহ? প্রয়োজনে বন্ধ করে কেড়েও নেওয়া হতে পারে গরিবকল্যাণের বিদেশি অনুদান? এটা মেনে নেওয়া যায়?’