দিল্লির অভিজাত ও ঐতিহ্যবাহী জিমখানা ক্লাবকে ঘিরে উচ্ছেদ বিতর্কে নতুন মোড়। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ৫ জুনের মধ্যে পুলিশ পাঠিয়ে জোর করে ক্লাবের জমি দখল করা যাবে না।
আদালতে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে নোটিস পাঠানো হবে। একই সঙ্গে বিকল্প জমির বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্র। ফলে আপাতত স্বস্তি পেল ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
Advertisement
লুটিয়েন্স দিল্লির লোককল্যাণ মার্গ এলাকায় প্রায় ২৭.৩ একর জমির উপর শতাব্দীপ্রাচীন দিল্লি জিমখানা ক্লাব। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ক্লাব দীর্ঘদিন ধরেই দেশের আমলা, কূটনীতিক, সেনা আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আড্ডার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত।
Advertisement
গত ২২ মে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীন ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর বা এল অ্যান্ড ডিও-র তরফে ক্লাবটিকে নোটিস পাঠিয়ে ৫ জুনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্রের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য এই জমি প্রয়োজন।
উচ্ছেদ নোটিসের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতে দাবি করেন, নোটিসে উচ্ছেদের নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।এদিকে ক্লাব কর্তৃপক্ষও কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে জানায়, হঠাৎ উচ্ছেদ হলে ১৪ হাজারের বেশি সদস্য এবং প্রায় ৫০০ কর্মীর উপর তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প জমির দাবিও জানানো হয়েছে।
এর জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সরকারি কাজ ও জনস্বার্থে এই জমি প্রয়োজন। তবে ৫ জুন জোর করে উচ্ছেদ করা হবে না। প্রয়োজন হলে নতুন করে নোটিস দেওয়া হবে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের তথ্যানুযায়ী, ক্লাবটির বিনিয়োগের পরিমাণ ১৬২ কোটিরও বেশি এবং মোট সম্পদ প্রায় ১২৯ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বাজারমূল্য প্রায় ২১৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি ফিক্সড ডিপোজিটে ২৪ কোটির বেশি টাকা রাখা হয়েছিল। ক্লাবের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস রেস্তোরাঁ, বার ও ব্যাঙ্কোয়েট পরিষেবা, যেখান থেকে বছরে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
২০২৪-এর মার্চ পর্যন্ত ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৫৪৭। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, হঠাৎ উচ্ছেদ হলে শুধু সদস্যরাই নন, প্রায় ৫০০ কর্মচারীর জীবন ও জীবিকা সমস্যার মুখে পড়বে। সেই কারণেই কেন্দ্রের কাছে পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প জমির আবেদন জানিয়েছে তারা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের পরিদর্শনে ক্লাবের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম, বেআইনি নিয়োগ এবং জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement



