• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 16 July, 2026

সোনমের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

চিকিৎসকদের রিপোর্টে যদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ থাকে, তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। শুনানির সময় বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘প্রতিটি জীবন মূল্যবান’

সোনমের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

Photo: Representational Image

অনশনরত শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সব রকমের পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে, সরকারি চিকিৎসকদের নিয়ে প্রতিদিন ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসকদের রিপোর্টে যদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ থাকে, তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। শুনানির সময় বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘প্রতিটি জীবন মূল্যবান’।

বৃহস্পতিবার আদালতে কেন্দ্রের তরফে ছিলেন সলিসিটর জেনালের তুষার মেহতা। তিনি জানান, সরকারি চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যেই ওয়াংচুকের শারীরিক পরীক্ষা করেছেন। চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি কোনও চিকিৎসা-সহায়তার প্রয়োজন হয়, তবে কেন্দ্র তা নিশ্চিত করবে। তবে সব পদক্ষেপই চিকিৎসকদেরর পরামর্শ মেনেই করা হবে বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

টানা অনশনের জেরে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলারই জরুরি শুনানি হয় বৃহস্পতিবার।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন যন্তরমন্তর আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। সাত দিন পর অনশনে বসেন সমাজবিদ তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার অনশন ১৯তম দিনে পা দিয়েছে। বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, ‘আমার শরীর ভালো নয়। তবে খুব খারাপও নয়। এমন অবস্থা নয় যে, দু-চার দিনেই মধ্যেই মরে যাব।‘

বুধবার ককরোচ জনতা পার্টির তরফে একটি মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশিত হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুক শারীরিকভাবে ‘খুবই দুর্বল’। এক দিনে তাঁর ওজন প্রায় ৪০০ গ্রাম কমে গিয়েছে। ওজন হয়েছে ৫৭.১৫ কেজি। অনশন শুরুর আগে তাঁর ওজন ছিল ৬৬ কেজি।

প্রথম দিকে আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কম থাকলেও, গত কয়েক দিনে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় যন্তর মন্তরে ভিড় বেড়েছে। দিল্লির প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষাবিদেরা সমর্থন জানতে সেখানে গিয়েছেন।

নিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে দেহরাদুনের রিয়া কুমারী থাপার বাবা-মাও বুধবার ফোন করে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

ওয়াংচুকের সঙ্গে অনশনে বসেছিলেন ছাত্র সংগঠন আইসার ছয় জন নেতা-নেত্রী। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেহা, ইলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মণীশ এবং অম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিন এই তিন পিএইচজি গবেষক টানা ১৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের শরীরে কিটোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা-সাংসদ। সোমবার যন্তরমন্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ এবং অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ। তাঁরা সোনম ওয়াংচুক-সহ অন্যান্যদের অনশন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান। এছাড়া তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফোন করে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।