রাজধানীর অন্যতম অভিজাত ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান দিল্লি জিমখানা ক্লাবকে ঘিরে আইনি লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সাফদরজং রোডে অবস্থিত ক্লাবের বিশাল জমি কেন্দ্রীয় সরকারে পুনর্দখলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ২৭.৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ক্লাবের সম্পত্তি নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই জমি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছেই অবস্থিত। কেন্দ্রের দাবি জাতীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিকাঠামোর প্রয়োজনে এই জমি দরকার।
কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি ক্লাবকে আগামী ৫ জুনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেয়। এর জেরে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয় মন্ত্রক, ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্ছেদের নোটিস জারি করে।
Advertisement
সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘবি। ক্লাব সদস্য বিজয় খুরানার পক্ষে তিনি দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। এরপর দিল্লি হাইকোর্ট মামলাটি মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৬ মে শুনানির দিন ধার্ষ করেছে।
Advertisement
২২ মে জারি করা নোটিসে ডেপুটি ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসার সুচিত গোয়েল জানান, প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং কৌশলগত জননিরাপত্তার স্বার্থে সরকার এই জমি পুনর্দখল করতে চায়। আদালতে সরকার জানায় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জরুরি প্রয়োজনে জমিটি দরকার এবং সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে তা যুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়।
চিরস্থায়ী লিজ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জনস্বার্থে প্রয়োজন পড়লে জমির মালিকানা পুনরায় নেওয়ার অধিকারি সরকারের রয়েছে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে জমির উপর থাকা সমস্ত ভবন, লন, পরিকাঠামো ও অন্যান্য সম্পত্তির পূর্ণ অধিকার পুনর্দখলের পর সরকারে অধীনে চলে যাবে।
দিল্লি জিমখানা ক্লাবটি ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশদের দ্বারা তৈরি এই ক্লাব ভারতের অন্যতম অভিজাত ও ঐতিহাসিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বহু বছর ধরে এই ক্লাব আমরা, কূটনীতিক, প্রতিরক্ষা আধিকারিক এবং দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ মিলকেন্দ্র হিসেবি পরিচিতি পেয়েছে।
১৯৩০ সালে রবার্ট টি রাসেল ভবনটি তৈরি করেন। তিনি দিল্লির কনক প্লেস এবং পরবর্তীকালে টিন মূর্তি হাউস নামে পরিচিত প্রাক্তন কমান্ডার ইন চিফের বাসভবনের নকসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে ক্লাবটির প্রায় ৫ হাজার ৬০০ স্থায়ী সদস্য রয়েছে।
Advertisement



