• facebook
  • twitter
Saturday, 23 May, 2026

দিল্লি জিমখানা ক্লাবকে জমি ছাড়ার নির্দেশ কেন্দ্রের, ৫ জুনের মধ্যে খালি করতে হবে ২৭ একর এলাকা

নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২ নম্বর সফদরজং রোডের ওই জমি একসময় ইম্পেরিয়াল দিল্লি জিমখানা ক্লাব লিমিটেডকে ইজারা দেওয়া হয়েছিল

শতাব্দীপ্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী দিল্লি জিমখানা ক্লাবকে এবার জমি ছাড়ার নির্দেশ দিল কেন্দ্র সরকার। রাজধানীর অন্যতম অভিজাত এই ক্লাবকে আগামী ৫ জুনের মধ্যে তাদের দখলে থাকা ২৭.৩ একর জমি খালি করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন।

ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস বা এল অ্যান্ড ডিও-র তরফে ২২ মে পাঠানো নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২ নম্বর সফদরজং রোডের ওই জমি একসময় ইম্পেরিয়াল দিল্লি জিমখানা ক্লাব লিমিটেডকে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেটিই দিল্লি জিমখানা ক্লাব নামে পরিচিত। সামাজিক মেলামেশা ও খেলাধুলার উদ্দেশে দেওয়া সেই জমি এখন জনস্বার্থ ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রয়োজনে ফেরত নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইজারার চুক্তির চার নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারতের রাষ্ট্রপতি ওই জমির উপর থাকা ভবন, পরিকাঠামো ও বাগানের মালিকানা ফের গ্রহণ করছেন। আগামী ৫ জুন শান্তিপূর্ণভাবে জমির দখল হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

Advertisement

লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের খুব কাছেই অবস্থিত এই ক্লাব ঘিরে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও প্রতিরক্ষা দপ্তর। সেই কারণেই গোটা অঞ্চলটিকে ‘সংবেদনশীল ও কৌশলগত’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র।

ঔপনিবেশিক আমলের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে দিল্লি জিমখানা ক্লাবকে ঘিরে। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ কলকাতা থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরানোর ঘোষণা করেন। নতুন রাজধানীতে ব্রিটিশ আমলাদের সামাজিক জীবন ও বিনোদনের জন্যই ১৯১৩ সালে গড়ে ওঠে ইম্পেরিয়াল দিল্লি জিমখানা ক্লাব।

পরবর্তীকালে স্বাধীনতার পরে ক্লাবটির নাম হয় দিল্লি জিমখানা ক্লাব। ১৯৩০-এর দশকে তৈরি হওয়া ক্লাব ভবনের নকশা করেছিলেন ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট টর রাসেল। তিনিই দিল্লির বিখ্যাত কনট প্লেসের নকশাও করেছিলেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সরকারি বাসভবন ‘কমান্ডার ইন চিফস রেসিডেন্স’-এর নকশাও ছিল তাঁরই তৈরি।

ক্লাবের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু স্মৃতি। ১৯৩০-এর দশকে ক্লাবের সুইমিং পুল নির্মাণে অর্থসাহায্য করেছিলেন তৎকালীন ভাইসরয়ের স্ত্রী লেডি উইলিংটন। দেশভাগের সময় ১৯৪৭ সালে এই ক্লাবের সামনেই নাকি একে অপরকে বিদায় জানিয়েছিলেন শিখ, হিন্দু ও মুসলিম সেনা আধিকারিকরা।লেখক খুশবন্ত সিংও ছিলেন এই ক্লাবের আজীবন সদস্য। দিল্লির সামাজিক সংস্কৃতি নিয়ে লিখতে গিয়ে তিনি একবার রসিকতা করে ক্লাবের সদস্যদের ‘রামে জারিত’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

Advertisement