• facebook
  • twitter
Saturday, 23 May, 2026

কারিগরদের আর্থিক উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ, বাংলায় চালু হচ্ছে ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’, নবান্নে বৈঠকের পর জারি নির্দেশিকা

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ চালু করেছিল

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এবং দক্ষ শিল্পী ও কারিগরদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এবার কার্যকর হতে চলেছে কেন্দ্রীয় ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে কার্যকর না হওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত ২২ মে নবান্নে এই প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব তথা উন্নয়ন কমিশনার ড. রজনীশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত, কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গ্রামীণ এলাকার প্রকৃত কারিগর ও হস্তশিল্পীদের চিহ্নিত করার উপর। কামার, কুমোর, সূত্রধর, তাঁতি, স্বর্ণকার- সহ বিভিন্ন পেশার শিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া, আধুনিক সরঞ্জামের যোগান দেওয়া  এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

Advertisement

প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, পূর্বতন সরকার এই প্রকল্প ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যে চালু করেনি। তাই নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই এই প্রকল্প কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন জানিয়েছে। সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে এখন প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’ চালু করেছিল। এই প্রকল্পের আওতায় শিল্পী ও কারিগরদের প্রশিক্ষণ, স্বল্প সুদে ঋণ, ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়। এবার পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই একটি ‘স্টেট মনিটরিং কমিটি’ এবং প্রতিটি জেলায় ‘ডিস্ট্রিক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি’ গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই কমিটিগুলি ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’-র বাস্তবায়ন ও নজরদারির দায়িত্ব পালন করবে।

রাজ্য প্রশাসনের আশা, এই প্রকল্প কার্যকর হলে বাংলার বহু প্রান্তিক শিল্পী ও শ্রমজীবী মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পের পুনর্জাগরণেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement