• facebook
  • twitter
Thursday, 16 April, 2026

ভোটদান বাধ্যতামূলক করার আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে কিন্তু কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী

ভোটদান বাধ্যতামূলক করার আর্জি খারিজ করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত । প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোট দেওয়া নাগরিকের অধিকার হলেও তা বাধ্যতামূলক করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে কিন্তু কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।এ বিষয়ে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেখানে বলা হয়— প্রত্যেক নাগরিকের ভোটদান বাধ্যতামূলক করা হোক এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট না দিলে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এমনকি ভোট না দিলে সরকারি সুবিধা বা অনুদান সীমিত করার আবেদনও জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার মামলাটি উঠেছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে। সেখানে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নীতি নির্ধারণের আওতায় পড়ে, যা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়। আদালত এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে পারে না।

Advertisement

শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই দেশ আইনের শাসনে চলে এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখে। গত ৭৫ বছর ধরে আমরা প্রমাণ করেছি যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের কতটা আস্থা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রত্যেক নাগরিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন, এটাই প্রত্যাশিত। তবে কেউ যদি ভোট দিতে না যান, তো যাবেন না। এতে আমাদের কিছু করার নেই। এ ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করতে পারি না।‘

Advertisement

শুনানির সময় আদালত সমাজের প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের বাস্তব পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, একজন দিনমজুর যদি জীবিকার কারণে ভোট দিতে না পারেন, তাহলে তাঁকে কীভাবে বাধ্য করা যাবে? আদালতের মতে, গণতন্ত্রের শক্তি জবরদস্তিতে নয়, বরং মানুষের সচেতন অংশগ্রহণে নিহিত।

এছাড়া ভোট না দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, কোনও নাগরিক ভোট দিতে না গেলে তাকে শাস্তি দেওয়া বা গ্রেপ্তার করার মতো পদক্ষেপ অযৌক্তিক। বাস্তব পরিস্থিতির দিকেও ইঙ্গিত করে আদালত জানায়, ভোটের দিন অনেকেরই পেশাগত দায়িত্ব থাকে, যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট বক্তব্য— ভোটদান উৎসাহিত করা জরুরি, কিন্তু তা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত আইনসভা বা নীতিনির্ধারকদের উপরই নির্ভরশীল।

 

 

Advertisement