• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 16 June, 2026

বিশ্বকাপে চমক দেওয়া ফুটবল উপহার দিতে তৈরি হ্যারি কেন ও রোনাল্ডোরা

বিশ্বকাপ ফুটবল বলতেই বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারের উপরেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার মধ্যে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম জ্বলজ্বল করবে।

বিশ্বকাপ ফুটবল বলতেই বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারের উপরেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার মধ্যে অবশ্যই পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নামটা জ্বলজ্বল করবে। নিঃসন্দেহে বিশ্বফুটবলে সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রোনাল্ডো ইউরো কাপ পর্তুগালকে দিলেও, এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের হাসি হাসতে পারেননি। জিতেছেন নেশনস লিগ। এমনকি সৌদি আরবে গিয়ে আল নাসের দলের হয়ে ফুটবল  মঞ্চে বিবর্তন এনেছেন। তিনি সিআর সেভেন নামে সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ফুটবলার। তাই তো সারা দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা রোনাল্ডোর খেলা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকেন।

গত চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে প্রথমদিকে যেভাবে রোনাল্ডো শিরোনামে উঠে এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেননি। পর্তুগালকে বিদায় নিতে হয় কোয়ার্টার ফাইনালে। এবারে পর্তুগাল প্রথম ম্যাচে বুধবার মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে। পর্তুগালের কোচ রোবার্তো মার্তিনেজ যেভাবে দল গঠন করেছেন, তা দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন হয়তো ফাইনালে দেখতে পাওয়া যাবে রোনাল্ডোকে। অভিজ্ঞ এবং তরুণ ফুটবলারদের মিশ্রণে এবারের দল অনেক বেশি শক্তিশালী। প্রতিপক্ষ দলকে খুব সহজেই টেক্কা দেওয়ার রশদ রয়েছে। হয়তো অনেকেই বলবেন, রেনাল্ডোর এটাই শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু তিনি কখনওই বয়সের দিকে তাকিয়ে ফুটবল খেলতে নামেন না। ফুটবলটা তাঁর কাছে শুধু আবেগ নয়, প্রাণ। ফুটবল তাঁকে প্রতিপত্তি দিয়েছে। মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছেন। তাই যতদিন ফুটবল খেলার ইচ্ছা তাঁর থাকবে, ততদিন মাঠ ছেড়ে যাবেন না। ফিফা ক্রমতালিকায় পর্তুগাল এই মুহূর্তে পাঁচ নম্বরে রয়েছে। তাই কোচ রোবার্তো বলেছেন, রোনাল্ডো এবং ব্রুনো ফার্নান্ডেজদের পাশে ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, নুনো মেন্ডেজ, রাফায়েল লেয়াও ও ফেনিক্সের মতো ফুটবলাররা যে দলে রয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই সাহসী ফুটবল খেলতে জানেন। এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পর্তুগাল এবারে বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছেছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ৯-১ গোলে আর্মিনিয়াকে ছাড়খাড় করে দিয়েছেন রোনাল্ডোরা। হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ইতিহাস গড়েছেন রোনাল্ডো।

নিঃসন্দেহে রোনাল্ডো পর্তুগালের ট্রামকার্ড। দলের মাঝমাঠটাও অত্যন্ত শক্তিশালী। দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ গড়ে তোলা হয় প্রতিপক্ষ শিবিরের রক্ষণভাগে। রিজার্ভ বেঞ্চে বেশ কয়েকজন নামি ফুটবলার রয়েছেন। তাই কোচের সামনে বিকল্প ফুটবলার নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। খেলোয়াড়দের মধ্যে অত্যন্ত বোঝাপড়া রয়েছে। সাধারণত নিজেদের দখলে বল রেখে আক্রমণ গড়ে তোলার প্রবণতা রয়েছে রোনাল্ডোদের। বল নিয়ন্ত্রণে তাঁরা প্রত্যেকেই দুরন্ত ভূমিকা নিয়ে থাকেন। সেই কারণেই প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়া খুব একটা কঠিন হবে না।

এখানে উল্লেখ করা যেতে ৫২ বছর বাদে আবার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ডিআর কঙ্গো। বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে জয় করে কঙ্গো এবার নজর কেড়ে নিয়েছে। তাই খুব সহজেই তারা বিশ্বকাপের কোনও খেলায় পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। কোচ সেবিস্কিয়ান এই দলে ৩৫ বছর বয়সী ফুটবলার গায়েল কাকুতাকে নিয়েছেন। যদিও তিনি চলতি বছরে কঙ্গোর হয়ে অন্য টুর্নামেন্টে যে দুটো ম্যাচ খেলেছেন, তাতেই তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। তবে রক্ষণভাগটা বেশ গোছানো।  ফিফা ক্রমতালিকায় ৪৬-এ দাঁড়িয়ে রয়েছে কঙ্গো। কঙ্গো দলের ভরসা স্ট্রাইকার সেন্ড্রিক বাকামবু। কঙ্গোর কোচের পছন্দের ছক বলতে ৪-৩-৩। তবে পর্তুগালের বিরুদ্ধে কোচ হয়তো পাঁচজনকে রক্ষণভাগে রেখে আক্রমণ গড়ে তুলবেন।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড বুধবারই খেলতে নামছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। ইংল্যান্ড বলতেই হ্যারি কেনের নামটা সবার আগে মনে পড়ে যাবে। অধিনায়ক হ্যারিকেন সাধারণত মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে আসেন। তবে, তাঁদের সম্মিলিত আক্রমণে প্রতিপক্ষ দল বেশ চাপে পড়ে যায়। দারুণ ছন্দে রয়েছেন টুহল, মার্ক গেয়ি ও জন স্টোনস। ইংল্যান্ড দল বিশ্বকাপে সবচেয়ে আভিজ্ঞ। ২০২৪ সাল থেকে তারা বিশ্বকাপ খেলছে। তাদের প্রধান হাতিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চ ও আক্রমণ। হঠাৎ হঠাৎ তারা নিজেদের মধ্যে বল খেলে আক্রমণে উঠে আসে। আর তখনই প্রতিপক্ষ দল বিপদে পড়ে যায় কীভাবে তা সামাল দেবে। বিপক্ষ দলের রক্ষণভাগকে চুরমার করার জন্য হ্যারি কেনরা তৈরি রয়েছেন। তাঁদের রক্ষণ চেড়া পাস দেখার মতো। কোচ সবসময়ই ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের প্রতি বেশি আন্তরিকতা রয়েছে। সেই কারণেই মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করে প্রতিপক্ষ দলের রক্ষণভাগকে চুরমার করে দেওয়ার অঙ্ক থাকে। এই মুহূর্তে তারা ক্রমতালিকায় চার নম্বরে রয়েছে।

অপরদিকে ক্রোয়েশিয়া ক্রমতালিকায় ১১ নম্বরে অবস্থান করছে। ক্রোয়েশিয়া সবসময়ই চমক দেখানো খেলা খেলে থাকে। এই দলের কিংবদন্তী ফুটবলার লুকা মদ্রিচের হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। তাই শেষ বিশ্বকাপে তিনি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন, এটা মনে রাখতে হবে। এ বাদেও আক্রমণে আন্দ্রে ক্রামারিচ রয়েছেন। সব মিলিয়ে বলতে পারা যায়, গতি বাড়িয়ে খেলার একটা প্রবণতা ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলারদের রয়েছে।