• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 29 July, 2026

এসআইআর কাজ শেষ করতে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে অফিসার নিয়োগের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

‘অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এলে তাঁরা বাংলা বুঝতে পারবেন না।‘

এসআইআর কাজ শেষ করতে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে অফিসার নিয়োগের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Supreme Court Photo-SNS

রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শুরু হয়েছে। তবে তাতে বিচারকের ঘাটতি রয়েছে যা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এ কথা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে স্টেটাস রিপোর্ট পাঠান। আর তার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রয়োজন হলে ভিন্‌রাজ্য থেকেও বিচারক আনা যেতে পারে।

আদালতে জানানো হয়, বর্তমানে প্রায় ৮০ লক্ষ নাম তথ্যগত অসঙ্গতি ও আনম্যাপড তালিকায় রয়েছে। প্রায় ৫০ লক্ষ দাবি যাচাইয়ের দায়িত্বে আছেন ২৫০ জন জেলা ও অতিরিক্ত জেলা বিচারক পদমর্যাদার আধিকারিক। প্রতিদিন ২৫০টি করে নিষ্পত্তি হলেও পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় ৮০ দিন লাগতে পারে। অথচ কমিশনের লক্ষ্য ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা।

এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, তিন বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিভিল জজ (সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশন) এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদেরও কাজে নেওয়া যাবে। প্রয়োজনে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারক আনার কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টগুলির প্রধান বিচারপতিদের সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদিও ভাষাগত সমস্যা নিয়ে রাজ্যের তরফে আপত্তি তোলা হয়। সরকার পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই সওয়ালই করেন। তিনি বলেন, ‘অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এলে তাঁরা বাংলা বুঝতে পারবেন না।‘

তবে এই সমস্যা সমাধানের কোনও উপায় আপাতত নেই বলেই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি কান্তের মন্তব্য, ‘এই অবস্থায় আমাদের কিছু করার নেই। ইতিহাস বলছে, এক সময় ওই রাজ্যগুলি একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিল। তাই স্থানীয় উপভাষা বা ভাষার ধরন থেকে কিছুটা বুঝতে পারবেন।‘

সুপ্রিম কোর্ট আরও স্পষ্ট করেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা পড়া নথিই গ্রহণযোগ্য হবে এবং পরবর্তী অতিরিক্ত তালিকাগুলিকেও ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকার অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন; তাঁদের উপর অন্য কোনও নির্দেশ চাপানো যাবে না। ইতিমধ্যেই আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত বিচারকের ছুটিও বাতিল করেছে হাইকোর্ট।

শুনানি শেষে রাজ্যের শাসকদল এই নির্দেশকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশাল এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব কি না, সেদিকেই নজর সকলের।