প্রয়াত নেতা অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন। তাঁর আগে আর কোনও মহিলা মহারাষ্ট্রে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে শনিবার এক নতুন নজির সৃষ্টি করল মারাঠাভূমের রাজনীতি। সুনেত্রা পাওয়ার এতদিন ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। এবার তিনি সরাসরি রাজ্য প্রশাসনের অন্যতম প্রধান আসনে।
এদিকে সুনেত্রা পাওয়ারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না কাকা শরদ পাওয়ার, এমন দাবি করেন তিনি।এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার জানান, ‘আমি জানি না আমার ভাইপোর স্ত্রী শপথ নেবেন কি না। এটা দলের সিদ্ধান্ত। আমার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। খবরের কাগজে আজকে প্রফুল প্যাটেল-সহ কয়েকজনের নাম দেখলাম, যাঁরা নতুন দায়িত্ব পেতে পারেন।
‘শরদ পাওয়ার আরও জানান, ‘গত চার মাস ধরে দুই এনসিপি গোষ্ঠীর এক হওয়ার কথা চলছিল। এই প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন অজিত, শশীকান্ত শিন্ডে ও জয়ন্ত পাটিল। দুটি দলকে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখ ঠিক হয়েছিল, কিন্তু অজিতের অকাল প্রয়াণে সব স্থগিত হয়ে গিয়েছে। এখন আমরা চাই তাঁর ইচ্ছেপূরণ হোক।’
শনিবার সকালেই ছেলে পার্থকে নিয়ে দক্ষিণ মুম্বাইয়ে অজিত পাওয়ারের সরকারি বাসভবন দেবগিরিতে আসেন সুনেত্রা পাওয়ার। এরপরেই তাঁর সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দলীয় সূত্রে খবর, এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন তিনি। সূত্রের আরও খবর, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পুনে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে দিশা স্পষ্ট করতেই সুনেত্রা পাওয়ারকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব ওঠে। এই প্রস্তাব ঘিরে পাওয়ার পরিবারের মধ্যেও আলোচনা হয়।
পরিস্থিতি ও দায়িত্বের ভার বিচার করেই শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবে সম্মতি দেন সুনেত্রা। শনিবার শপথগ্রহণের মধ্য দিয়েই রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এনসিপি বিভক্ত হয়ে যায়। কাকা শরদ পাওয়ারের দল থেকে অজিত পাওয়ার ৪০-এরও বেশি বিধায়ককে নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকারে যোগ দেন।এনসিপির প্রতীক পেয়েছিল অজিত শিবিরই। এরপর শরদ পাওয়ার নিজের গোষ্ঠীকে ‘এনসিপি- শরদচন্দ্র পাওয়ার’ নামে ঘোষণা করেন। বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে সাফল্যও পান। যদিও পরে পরিস্থিতির বদল ঘটে।
আবার কাকার দলে ফিরবেন বলে স্থির করেছিলেন অজিত এমনটাই মনে করে রাজনৈতিক মহল। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে এ-ও দাবি করা হয় যে, দুই গোষ্ঠী মিশে যাওয়ার পর মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসকজোটে শরদ গোষ্ঠীর যোগদানের পথ প্রশস্ত হতে পারে।এমন এক সম্ভাবনার মধ্যেই প্রয়াত হন অজিত। এবার তাঁর জায়গাতেই বসলেন স্ত্রী সুনেত্রা।
বিজেপির তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, শরিক দল নিজেদের পরবর্তী নেতা হিসেবে কাকে নির্বাচন করবে সেই সিদ্ধান্ত এনসিপি-র উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিধায়করা যাঁকে এনসিপি-র নেতা বলে স্থির করবেন বিজেপিও তাঁকেই মেনে নেবে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস জানিয়েছেন, ‘উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, আমরা সমর্থন করব। আমরা অজিত পাওয়ারের পরিবার এবং এনসিপি-র পাশে রয়েছি।’
রাজনীতির ময়দানে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন সুনেত্রা। সেবারই তিনি প্রথম ভোটে লড়েন। বারামতী আসনে তাঁর বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছিলেন শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। বৌদি সুনেত্রাকে হারিয়ে আরও একবার লোকসভার সদস্য হন সুপ্রিয়া। সুনেত্রা যান রাজ্যসভায়। এবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় সুনেত্রা।
বুধবার এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অজিত পাওয়ার। বৃহস্পতিবার বারামতীর বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি, এনসিপি প্রধান এবং অজিত পাওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ার, অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার সুনেত্রা পাওয়ারের শপথের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।