মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় আলোড়ন। সদ্য প্রয়াত উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের অকাল প্রয়াণের পর নতুন করে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে এনসিপির দুই শিবিরের মধ্যে। অজিত পাওয়ার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং শরদ পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)— একসঙ্গে জুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর এই রাজনৈতিক সমীকরণ আরও গতি পেয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে পুনে ও পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড় পুরনিগমে এনসিপি ও এনসিপি (এসপি) একসঙ্গে লড়াই করেছিল। পাশাপাশি জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যৌথ লড়াইয়ের আলোচনা চলছিল। এই দুই ঘটনাই আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, দুই শিবিরের মধ্যে দূরত্ব কমছে। এবার অজিত পাওয়ারের প্রয়াণ সেই সম্ভাবনাকে আরও বাস্তব রূপ নেওয়ার দিকে ঠেলে দিল বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
Advertisement
বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও পাওয়ার পরিবারের ঘনিষ্ঠ কিরণ গুজর জানিয়েছেন, ‘অজিত দাদার শেষ ইচ্ছাই ছিল দুই শিবিরকে একত্রিত করা’। তাঁর কথায়, ‘পরিবারের মধ্যেই এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চলছিল। শেষ ফোনালাপে দাদা বলেছিলেন, সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। দল ভাঙাভাঙির রাজনীতি নয়।’
Advertisement
বারামতিতে আয়োজিত অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্যের পর সঙ্গমে অস্থিভস্ম বিসর্জনের সময়ও এই বার্তাই সামনে আসে। কিরণ গুজর জানান, ‘দুই শিবিরের এই একীকরণই ছিল দাদার শেষ ইচ্ছা।’
এনসিপি (এসপি)-র নেতা জানিয়েছেন, গত তিন থেকে চার মাস ধরেই দুই শিবির একসঙ্গে হওয়ার আলোচনা চলছিল। অজিত পাওয়ার বিষয়টি জানতেন। তাঁর কথায়, ‘প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল সিদ্ধান্ত। স্থানীয় নির্বাচনে ঘড়ি প্রতীকেই লড়াইয়ের কথা হচ্ছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রস্তুতিও ছিল।’
প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রবীণ এনসিপি (এসপি) নেতা অনিল দেশমুখও স্বীকার করেছেন, ‘অজিত পাওয়ার একসঙ্গে জুড়তে চাইতেন। জয়ন্ত পাটিলও বৈঠক করেছেন এই বিষয়ে। অজিত দাদার শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে দুই শিবিরের এক হওয়া উচিত।’
এর মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আরেকটি আলোচনা জোরদার হয়েছে— এনসিপির নেতৃত্ব ও রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদে অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে। এনসিপি নেতা উমেশ পাটিল বলেছেন, ‘দলের কর্মীদের ইচ্ছা, দুই শিবির এক হোক এবং সুনেত্রা পাওয়ার দলনেত্রী ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী হোন। তিনি বহুদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, মাঠে কাজ করেছেন, নেতৃত্ব দিতে তাঁর অসুবিধা হবে না।’
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা রাম কদমও জানিয়েছেন, সুনেত্রা পাওয়ারের নাম বিবেচনায় আছে বলেই শোনা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ‘অজিত পাওয়ারের মৃত্যু রাজ্যের জন্য বিরাট ক্ষতি। তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে সুনেত্রা পাওয়ার সাংসদ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদি দল সিদ্ধান্ত নেয়, তা অজিত দাদার প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখা হবে।’
তবে এই সমস্ত জল্পনার বিরোধিতা করেছেন শিবসেনা নেত্রী শাইনা এনসি। তিনি বলেন, ‘এটা জল্পনার সময় নয়। পরিবার শোকস্তব্ধ অবস্থায় রয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব ও উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত এনসিপির বিষয়। রাজনীতি চলতেই থাকবে। কিন্তু এখন পরিবারকে শোক পালন করতে দেওয়া উচিত।’
সব মিলিয়ে অজিত পাওয়ারের প্রয়াণ শুধু এক নেতার মৃত্যু নয়, বরং মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। একদিকে এনসিপির দুই শিবিরের একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে নেতৃত্ব বদলের আলোচনা— সব মিলিয়ে রাজ্যের সমীকরণ বদলে যেতে চলেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
Advertisement



