দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে ছেড়ে চিকিৎসার জন্য গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তার মেডিকেল রিপোর্ট এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত সমস্ত নথি মেদান্ত হাসপাতালের চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সফদরজং হাসপাতাল জানিয়েছে, ডিসচার্জের সময় সোনম ওয়াংচুকের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসূচক স্থিতিশীল ছিল। তবে তার প্যানসাইটোপেনিয়া (রক্তের তিনটি প্রধান কোষের স্বল্পতা) সমস্যা এখনও রয়েছে। এছাড়া তার শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.৪ mEq/L রেকর্ড করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতের চিকিৎসায় কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট এবং মেডিকেল রেকর্ড মেদান্ত হাসপাতালের চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুনানির সময় এইমস এবং সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা আদালতকে জানান, ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কম। পাশাপাশি টিএলসি রিপোর্ট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করে আদালত উন্নত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।
শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্ট করেন যে, সোনম ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করানো নিয়ে সরকারের কোনও আপত্তি নেই। সব পক্ষের সম্মতিতেই উচ্চ আদালত দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, মেদান্ত হাসপাতালকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা তার স্বাস্থ্যের উপর নিয়মিত নজর রাখবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা করবেন।
মেদান্ত হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাসপাতালের ভিতরে ও বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য সোনম ওয়াংচুককে মেদান্ত হাসপাতালের চিকিৎসক দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।




