প্রয়াত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানানোয় দলীয় শাস্তির মুখে পড়লেন বিজেপির তিন সাংসদ। কমলজিৎ শেহরাওয়াত, রামবীর সিং বিধুরি এবং যোগেন্দ্র চান্ডোলিয়াকে সাসপেন্ড করল বিজেপি। শনিবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
১৯৮৪ সালের শিখ নিধনের ঘটনায় দুটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন সজ্জন কুমার। গত ২০ অগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বাড়িতে গিয়েছিলেন বিজেপির ওই তিন সাংসদ। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই বিজেপির অন্দরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
দলের নেতা-কর্মীদের একাংশ প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন, ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী হিংসার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত এক নেতার বাড়িতে বিজেপি সাংসদদের সমবেদনা জানাতে যাওয়ার যৌক্তিকতা কী? বিশেষত পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
এর পরেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিজেপি নেতা এইচ এস ফুলকা। শিখ নিধনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হয়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভাবে কাজ করেছেন তিনি। চলতি বছরের এপ্রিলেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ফুলকা। তিন সাংসদের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, ‘গণহত্যাকারী সজ্জন কুমারের বাড়ি গিয়ে সমবেদনা জানানোর জন্য তিন সাংসদের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করছি।’

ফুলকার বক্তব্য, বিজেপি বরাবর ১৯৮৪ সালের শিখ নিধনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে দলের সাংসদদের সজ্জন কুমারের বাড়িতে যাওয়ার কোনও কারণ থাকতে পারে না। তাঁর মতে, সমবেদনা জানানো উচিত ছিল সেই সব পরিবারের প্রতি, যাঁরা এখনও ১৯৮৪ সালের হিংসার স্মৃতি ও আতঙ্ক বয়ে বেড়াচ্ছেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপির মুখপাত্র আর পি সিং দাবি করেন, ওই তিন সাংসদের সজ্জন কুমারের বাড়িতে যাওয়া ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা সেখানে যাননি বলেও জানান তিনি।
১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী হিংসার ঘটনায় দিল্লির রাজনগরে দুই শিখ ব্যক্তিকে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল সজ্জন কুমারের। এ ছাড়াও ওই হিংসা সংক্রান্ত আরও একটি মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়।

সজ্জন কুমারের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়ে এ বার রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হল বিজেপির তিন সাংসদকে। পঞ্জাবের নির্বাচনের আগে এই ঘটনা বিজেপির অন্দরমহলে আরও কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।




