• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 29 August, 2026

‘আমিই রাজা’— সৌরভের এই মানসিকতাই বদলে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটকে! জানালেন তাঁর ঘরের ছেলে

সৌরভের ‘মহারাজকীয়’ মানসিকতা শুধু তাঁর নিজের মধ্যে আটকে থাকেনি। ধীরে ধীরে তা গোটা ভারতীয় দলে ছড়িয়ে পড়েছিল

‘আমিই রাজা’— সৌরভের এই মানসিকতাই বদলে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটকে! জানালেন তাঁর ঘরের ছেলে

Sourav Ganguly Photo-SNS

ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বের সময়টা যেন একটা যুগই বদলে দিয়েছিল। শুধু মাঠের ফল নয়, প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার মানসিকতাও তৈরি হয়েছিল সেই সময়। সৌরভের সেই আগ্রাসী মানসিকতাই পরবর্তী প্রজন্মের ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনই মনে করেন বাংলারই ক্রিকেটার, ভারতীয় দলের প্রাক্তন তারকা।

দূরদর্শনের ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট শো’-য়ে সৌরভের নেতৃত্বের সময়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার দীপ দাশগুপ্ত জানান, এক সময় মাঠে প্রতিপক্ষের স্লেজিংয়ের জবাব না দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটাররা নিজেদের রাগ ও যন্ত্রণা প্রকাশ করতেন নিজেদের পারফরম্যান্সে । কিন্তু সৌরভের নেতৃত্বে সেই ছবিটাই বদলে যায়।

দীপ বলেন, ‘কেউ স্লেজিং করলে আমরাও তার জবাব দিতে শুরু করেছিলাম। আগে আমরা ভাবতাম, ‘রাগটা নিজের মধ্যে রেখে দেব, সেটাকে পারফরম্যান্সে প্রকাশ করব।’ সেটাও করতাম। কিন্তু পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে জবাবও দিতে শুরু করেছিলাম। ওঁর ডাকনাম মহারাজ। তাই ওঁর মধ্যে সব সময় একটা ভাবনা ছিল— ‘আমিই রাজা।’ ধীরে ধীরে সেই মানসিকতার প্রভাব দলের উপরেও পড়তে শুরু করেছিল’।

অস্ট্রেলিয়া সফরের উদাহরণ দিয়েও নিজের বক্তব্য বোঝান দীপ। তাঁর মতে, ২০০৩-এর অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ভারতীয় দলের আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক কথাবার্তা আর চুপচাপ হজম করে নেওয়া নয়, মাঠেই তার জবাব দিতে শুরু করেছিল ভারত।

দীপ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমার প্রথম সফর থেকে ২০০৩-এর শেষ সফরের মধ্যে সেই পরিবর্তনটা খুব ভাল ভাবে দেখা গিয়েছিল। আগে আমাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত এবং নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু ২০০৩ সালে এসে কেউ কিছু বললে আমরাও তার জবাব দিতে শুরু করেছিলাম’।

সৌরভের অধিনায়কত্বে ভারত ৪৯টি টেস্ট খেলেছিল, যার মধ্যে ২১টি ম্যাচ জিতেছিল। তাঁর নেতৃত্বে ২০০১ সালের অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়, ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি এবং লিডস ও অ্যাডিলেডে টেস্ট জয় এসেছিল।

দীপের মতে, সৌরভ যে আগ্রাসী ক্রিকেটের ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট সেই ভিতের উপর আরও এগিয়ে যায়। বর্তমান ভারতীয় দলের যে লড়াকু মানসিকতা দেখা যায়, তার শিকড়ও সৌরভের সময়েই তৈরি হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।

অর্থাৎ, সৌরভের ‘মহারাজকীয়’ মানসিকতা শুধু তাঁর নিজের মধ্যে আটকে থাকেনি। ধীরে ধীরে তা গোটা ভারতীয় দলে ছড়িয়ে পড়েছিল। টিম ইন্ডিয়ার মানসিকতার অংশ হয়ে ওঠে— প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করা, স্লেজিংয়ের জবাব দেওয়া এবং মাঠে নিজেদের উপস্থিতি বুঝিয়ে দেওয়া।