যন্তরমন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে দিল্লি পুলিস সোনমকে তুলে নিয়ে যায়। সফদরজং হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। তবে সোনম ওয়াংচুক এখনও অনশন ভাঙেননি। তিনি আগের মতোই শুধুমাত্র নুন-জল খেয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মানা হচ্ছে না। পরিবারের তরফে তাঁকে অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা বলা হয়েছে।
হাসপাতালের সামনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গীতাঞ্জলি বলেন, আদালত কোথাও ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দেয়নি। তাঁর কথায় হাইকোর্ট শুধু বলেছিল, ‘একজন অনশনরত ব্যক্তির স্বাস্থ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলা হয়নি। তাই যা হয়েছে, তা আদালতের নির্দেশে হয়নি।‘
আরও পড়ুন:অনশনে শরীরে জলশূন্যতায় দুর্বল ওয়াংচুক, জানাল হাসপাতাল
সফদরজং হাসপাতালে ওয়াংচুকের চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্ত্রী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা নেমে ২.৯-এ পৌঁছেছে। তবে গীতাঞ্জলির দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত সেই মাত্রা ছিল ৪.৩। মাত্র এক দিনে এতটা কমে যাওয়ায় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাই অন্য একটি পরীক্ষাগারে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
গীতাঞ্জলির দাবি, হাসপাতালে আপাতত শুধু পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ওয়াংচুককে। কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলা হলেও সেগুলিও বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া সব মেডিক্যাল রিপোর্টেও তাঁদের হাতে তুলে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এখানে তেমন কোনও চিকিৎসা হচ্ছে না। শুধু পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পটাশিয়ামের মাত্রা ৪.৩ থেকে এক দিনে ২.৯ হওয়া সম্ভব কি না, তা আমরা অন্য ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে চাই। তারপর প্রয়োজন হলে ওষুধ দেওয়া হবে।‘
দিল্লি পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ওয়াংচুকের অনশন ভেঙে দেওয়া হয়েছে, এমন দাবি বিভিন্ন মহলে উঠলেও তা খারিজ করেছেন গীতাঞ্জলি। তাঁর কথায়, ‘উনি এখনও অনশনেই আছেন। এখনও কোনও মিষ্টি বা অন্য খাবার খাননি। প্রথম দিন থেকে যেমন নুন-জল খাচ্ছিলেন, এখনও সেটাই খাচ্ছেন। আমরা যে হাসপাতালের উপর আস্থা রাখি, সেখানে ওঁকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছি। সরকার তাঁকে হাসপাতালে এনে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এরপর কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত আমাদের পরিবারই নেবে। এতে সরকারের আর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।‘
অনশনের ২১তম দিনে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তাঁর স্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘ অনশনের কারণে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটি দুর্বল হয়ে পড়েছেন ওয়াংচুক। তবে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা অটুট রয়েছে। ইসিজি-সহ অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট আপাতত স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়েই উদ্বেগ রয়েছে। বিকল্প পরীক্ষাগারের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পরিবার।
এদিকে ওয়াংচুককে হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হলেও যন্তরমন্তরে আন্দোলন থামেনি। অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। শনিবার থেকেই ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ওয়াংচুকের জায়গায় অনশন শুরু করেছেন। তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কোনও নতুন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




