প্যালেস্টাইনের বন্দিদের পালিয়ে যাওয়া আটকাতে কুমির-ঘেরা বিশেষ জেল তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইজরায়েল সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নীল নদের কুমিরের আইনি মর্যাদাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইজরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির কয়েক মাস আগে এই প্রস্তাব দেন। তাঁর দাবি, ফ্লোরিডার একটি উচ্চমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘেরা বন্দিশালা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। এবার পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদের কুমিরকে সংরক্ষিত প্রাণীর তালিকা থেকে সরিয়ে নতুন আইনি বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে নিরাপত্তা বাহিনী ও জেল কর্তৃপক্ষ কুমির রাখতে পারবে।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে জেল নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। তবে পরিবেশ মন্ত্রকের আইনি উপদেষ্টা, ইজরায়েল প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ বা আইএনপিএ এবং একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণীকে এভাবে ব্যবহার করার কোনও যথাযথ আইনি বা পেশাগত ভিত্তি নেই। এতে প্রাণী ও মানুষের নিরাপত্তা দুই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধের পর ইজরায়েলের জেলগুলিতে প্যালেস্টাইনের বন্দিদের উপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ আগেই উঠেছে। এর মধ্যেই কুমির ঘেরা জেল তৈরির সিদ্ধান্ত উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।




