• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

বিরাট বদলের জল্পনা মোদীর ক্যাবিনেটে, RBI গভর্নর শক্তিকান্ত দাস কি সত্যিই দেশের নতুন অর্থমন্ত্রী

আরবিআই গভর্নর থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব, এবার কি নর্থ ব্লকের শীর্ষে শক্তিকান্ত দাস? নির্মলা যাচ্ছেন শিক্ষায়। বিশদে জানুন।

বিরাট বদলের জল্পনা মোদীর ক্যাবিনেটে, RBI গভর্নর শক্তিকান্ত দাস কি সত্যিই দেশের নতুন অর্থমন্ত্রী

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল (AI নির্মাণ)

দিল্লির রাজনৈতিক ভরকেন্দ্রের অন্দরে একটা নাম খুব জোরে ঘুরছে। শক্তিকান্ত দাস (Shaktikanta Das)।

রিজার্ভ ব্যাংক (Reserve Bank of India, RBI)-এর প্রাক্তন গভর্নর, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব (Principal Secretary to the Prime Minister), এবার নাকি হতে চলেছেন দেশের অর্থমন্ত্রী (Finance Minister)। সূত্রের দাবি, মোদি মন্ত্রিসভায় (Modi Cabinet) যে বড় রদবদল আসছে, তাতে নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) সরে যাবেন অর্থ মন্ত্রক থেকে। তাঁর জায়গায় আসবেন এই প্রবীণ আমলা-অর্থনীতিবিদ।

কবে হচ্ছে এই রদবদল? গুঞ্জন বলছে, ২৮ বা ২৯ জুনেই। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) দুই দিনের সেশেলস (Seychelles) সফর সেরে ২৯ জুন ফিরছেন দেশে। ফেরার পরেই কোনও একটা বড় ঘোষণা আসতে পারে।

তথ্যাভিজ্ঞ মহলের দাবি, সংকেতগুলো কিন্তু আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে।

দুটো বৈঠক, অনেক আলোচনা

২৩ জুন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (Amit Shah) একই কাজ করলেন। এই ধরনের বৈঠক সাধারণত মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আগে হয়, কারণ নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ রাষ্ট্রপতির সামনেই হয়।

দিল্লিতে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, সংসদের বাদল অধিবেশন (Monsoon Session) শুরুর আগেই এই রদবদল সারতে চাইছে সরকার। অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা জুলাইয়ের মাঝামাঝি।

কেন সরছেন নির্মলা?

নির্মলা সীতারামন ২০১৯ সাল থেকে অর্থমন্ত্রী। টানা সাত বছর। এই সময়ে তিনি একাধিক কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন, কোভিড-পরবর্তী অর্থনীতি সামলেছেন।

তবু বদলি কেন?

সূত্র বলছে, একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক গতি নিয়ে সমালোচনা দীর্ঘদিন ধরেই আছে। এর মধ্যে নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) ঘিরে যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সেটাও মন্ত্রিসভায় ধাক্কা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। সূত্র বলছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানও মন্ত্রিসভা থেকে ছাঁটাই হতে পারেন।

সেই শূন্যস্থানে যেতে পারেন নির্মলা। অর্থাৎ তাঁর জন্য সম্মানজনক বিদায়, তবে ‘পদাবনতি’ নয়, অন্তত কাগজে কলমে।

শক্তিকান্ত দাস কে?

১৯৫৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভুবনেশ্বরে জন্ম। দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজ (St. Stephen’s College) থেকে ইতিহাসে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর। তারপর ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম (University of Birmingham) থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে আরও এক স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

পড়েছেন ইতিহাস, যদিও কাজ করেছেন অর্থনীতি নিয়ে। এটাই হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।

১৯৮০ ব্যাচের তামিলনাড়ু ক্যাডারের (Tamil Nadu cadre) আইএএস (IAS) অফিসার। কর্মজীবনের বড় অংশটা কেটেছে কেন্দ্রের অর্থ মন্ত্রকেই। আট-আটটা কেন্দ্রীয় বাজেট তৈরিতে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। নোটবন্দির (Demonetisation) সময় অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের (Department of Economic Affairs, DEA) শীর্ষ আধিকারিক হিসেবে সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাংকের ২৫তম গভর্নর। আন্তর্জাতিক স্তরে তিনি ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বিশ্বব্যাংক (World Bank), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (Asian Development Bank, ADB), আইএমএফ (IMF), জি-২০ (G20), ব্রিকস (BRICS)-এ। ভারতের জি-২০ শেরপা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁর।

বিদায়ের সময় আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা তাঁকে ‘A+’ রেটিং দিয়েছিল। এই রেটিং দেশের কোনও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের জন্য সর্বোচ্চ।

গভর্নরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে মনোনীত করা হয় প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পদে। এই পথে তিনি ফের ফিরেছেন নর্থ ব্লকের কাছে।

সমস্যা একটাই, সংসদ সদস্য নন

শক্তিকান্ত দাস বর্তমানে সংসদের কোনও কক্ষের সদস্য নন। ভারতের সংবিধান বলছে, মন্ত্রী হওয়ার পরেও ছয় মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য হতে হবে।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিজেপি (BJP) তাঁকে উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) পাঠাতে পারে। ২০২৬ সালের নভেম্বরে রাজ্যটি থেকে ১০টি রাজ্যসভা আসন খালি হচ্ছে। সেই সুযোগ নেওয়া হতে পারে।

ইতিহাসে নজিরও আছে। সি ডি দেশমুখ (C.D. Deshmukh) ছিলেন আরবিআইয়ের প্রথম ভারতীয় গভর্নর, পরে হয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। মনমোহন সিং (Manmohan Singh) আরবিআই গভর্নর থেকে অর্থমন্ত্রী, তারপর প্রধানমন্ত্রী। শক্তিকান্ত দাস হয়তো সেই পথেই এগোচ্ছেন।

 রদবদলে আর কী গুরুত্বের?

মন্ত্রিসভার এই রদবদল শুধু শক্তিকান্ত দাসের জন্য নয়। রাজনৈতিক সমীকরণও মেলানো হচ্ছে একসঙ্গে।

পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ পুরিও (Hardeep Singh Puri) ছাঁটাইয়ের তালিকায় আছেন বলে সূত্রের দাবি। ছয়জন শিবসেনা (উদ্ধব) সাংসদকে এনডিএতে (NDA) টেনে আনার পুরস্কার পেতে পারেন শ্রীকান্ত শিন্ডে (Shrikant Shinde)। প্রাক্তন মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর (Anurag Thakur) ফিরতে পারেন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে। জেডিইউ (JDU) প্রধান নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির কথাও উঠেছে। আর আপ (AAP) ভেঙে যে দলবদলু নেতারা বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রাঘব চাড্ডার (Raghav Chadha) নামও শোনা যাচ্ছে।

কিন্তু এই সব জল্পনার মধ্যে কোনও সরকারি নিশ্চয়তা নেই। বিজেপি বা কেন্দ্র সরকার, কেউই এখন পর্যন্ত মুখ খোলেনি।