মীনাক্ষী ভট্টাচার্য
দলের প্রবল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার রাজধানী দিল্লিতেও তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ফের এক ধাক্কার খবর। দীর্ঘদিন ধরে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের দিল্লির ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের সরকারি বাসভবন দলের অঘোষিত কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হত। নিজের সরকারি বাড়ি আর দলীয় কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে ঘনিষ্ঠ মহলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক।
দিল্লির কর্তব্য ভবনের বিপরীতে পার্থর সরকারি বাসভবনে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজকর্ম চলছিল। সাংসদদের বৈঠক, সাংবাদিক সম্মেলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কৌশলগত আলোচনা-সবকিছুরই গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা ছিল পার্থর বাড়ি। জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে সাংসদ হিসেবে পার্থ ভৌমিকের নামে বরাদ্দ হয়েছিল ওই বাসভবন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের মধ্যেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। সূত্রের দাবি, পার্থ ভৌমিক ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, তাঁর নামে বরাদ্দ সরকারি আবাস আর দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এমনকী, তিনি বাড়িটি ছেড়ে ছোট সরকারি আবাসনের আবেদনও করতে পারেন। এরই মধ্যে বাড়ি থেকে দলের বেশ কিছু আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি দিল্লিতে একাধিক বৈঠকের পর বেশ কয়েকজন সাংসদের এনডিএ-ঘনিষ্ঠ অবস্থানের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। ফলে রাজধানীতে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কেন্দ্রের ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত পার্থ ভৌমিক বা তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কেউই মুখ খোলেনি।




