• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 25 July, 2026

ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার পরই মোদী-শাহ বৈঠক, মন্ত্রীসভায় রদবদলের জল্পনা

কয়েক সপ্তাহ আগে জর্জ কুরিয়েন রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ায় মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টুও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় বা সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে সক্রিয় রাজ্য রাজনীতিতে নামানো হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। 

ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার পরই মোদী-শাহ বৈঠক, মন্ত্রীসভায় রদবদলের জল্পনা

File photo

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরই দিল্লিতে জরুরি বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দু’জনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ একান্তে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি, সরকারের কৌশল এবং সম্ভাব্য মন্ত্রীসভায় রদবদল, এই তিনটি বিষয়ই বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেওয়ার আগে থেকেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনায় বসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। প্রধানের পদত্যাগের পর তাঁদেরও অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। আন্দোলনকারীদের বাকি দাবিগুলি এবং যন্তর মন্তরের পরিস্থিতি নিয়েও সরকার উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করছে।

বিজেপির একাংশের দাবি, শুরুতে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও পরে সেখানে সমাজবিরোধী ও দেশবিরোধী শক্তি ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। কেন্দ্রের অভিযোগ, পাকিস্তান-ভিত্তিক একাধিক সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকেও আন্দোলনকে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি পাক-হ্যান্ডেল ব্লক করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় কিছু দাগি অপরাধীকেও ভিড়ে দেখা গিয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এই প্রেক্ষাপটেই মোদী-শাহ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার রদবদল। গত এক মাসে তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগে মন্ত্রীসভায় একাধিক শূন্যপদ তৈরি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে জর্জ কুরিয়েন রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ায় মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টুও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় বা সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে সক্রিয় রাজ্য রাজনীতিতে নামানো হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।  শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর সেই শূন্যপদের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় রদবদল হতে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দিল্লিতে তলব করা হয়েছে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে। উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যের নেতাদের সঙ্গেও শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক হতে পারে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বিধানসভা নির্বাচন, সাংগঠনিক ভারসাম্য এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রীসভায় বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিজেপি নেতৃত্ব।