চলছিল উইকএন্ড পার্টি। তাতে দেদার মদের ফোয়ারা উঠেছিল। সঙ্গে নানারকম গান এবং উদ্দাম আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দের পরিসমাপ্তি ঘটল শোকের মধ্য দিয়ে। কারণ ওই মদে ছিল বিষাক্ত বিষ বলে অভিযোগ। যা পান করে একসঙ্গে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মধ্যপ্রদেশের এই বিষমদ কাণ্ডে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কারণ বিষাক্ত মদ খেয়ে শনিবার রাতেই ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বরাজ গ্রামে রবিবার সকাল থেকেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখনও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চললেও মৃত্যু সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাহলে কি বড় ব্র্যান্ডের আড়ালে মদে ভেজাল মিশছে? কারা রয়েছে নেপথ্যে? এই ঘটনা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সাগরের জেলাশাসক।
মৃতরা প্রত্যেকেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। শনিবার রাতে মদ্যপান করার পর থেকে একের পর এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। এমনকী অসুস্থ হয়ে পড়া ব্যক্তিদের অবস্থা মুহূর্তে সংকটজনক হয়ে উঠছিল। তাই তড়িঘড়ি তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ওই ৯ জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এখনও বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই বিষয়ে পুলিশ সুপার অনুরাগ সুজানিয়া জানান, শনিবার রাতে বরাজ গ্রামে একদল ব্যক্তি উইকএন্ড পার্টিতে মদ্যপান করছিলেন। তাঁদের কয়েকজন হঠাৎ বমি করতে শুরু করেন। তখনই তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পাঁচজনকে রাতেই চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। রবিবার সকালে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।
তবে হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসাধীনদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার কারণেই ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সমস্ত রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে বিষমদ তাঁরা পান করেছিলেন কিনা। এফআইআর দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তদন্তের স্বার্থে পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মদের নমুনা পরীক্ষা এবং কোথা থেকে মদ কেনা হয়েছিল সেসব খুঁজে বের করতেও সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। তবে যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে বিষমদ বিক্রি করা নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল কিছুদিন আগেই। একসঙ্গে ৯ জনের মৃত্যু আবার ওই অভিযোগ উসকে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিষমদের জেরেই মৃত্যু হয়েছে কিনা এবং নেপথ্যে কোনও অবৈধ মদের চক্র জড়িত কিনা সেসব পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
তাছাড়া এই ঘটনার পর মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বরাজ গ্রামে আবগারি দপ্তর হানা দিয়েছিল। স্থানীয় একটি দোকান থেকে একাধিক মদের বোতল তারা বাজেয়াপ্ত করেছে। সেগুলির নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগস্ট মাসেই গুজরাতের ভাবনগর জেলায় বিষমদ পান করে ১৩ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল।




