• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 6 September, 2026

আলিপুরদুয়ার থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার পথে লাইনচ্যুত মহানন্দা এক্সপ্রেস, কারণ কী?

মহানন্দা এক্সপ্রেস ভোর ৪টা ১২ মিনিটের দিকে আরা রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছয়। এখান থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা

আলিপুরদুয়ার থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার পথে লাইনচ্যুত মহানন্দা এক্সপ্রেস, কারণ কী?

Mahananda Express Derailed Photo-SNS

রবিবাসরীয় ছুটির দিনে টেনশনে যাত্রীরা। এদিন ভোর ৪টে নাগাদ বিহারের আরা এলাকাতে ১৫৪৮৩ আলিপুরদুয়ার জংশন-নয়াদিল্লি মহানন্দা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনটির ইঞ্জিন, এসএলআর এবং এইচ-১ কোচ লাইন থেকে সরে যায়। তবে রেলের দাবি, একটি কোচের একটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছিল। এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়-দানাপুর রেল সেকশনে এই ঘটনাটি ঘটার জেরে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে ট্রেনের ইঞ্জিন এবং আরও দু’টি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও ট্রেনের গতিবেগ কম থাকায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনের যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বলে মনে করা হচ্ছে।

মহানন্দা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার খবর পেয়ে রেল কর্মকর্তারা এবং রেল কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যান। যাত্রীদের উদ্ধার এবং স্বাভাবিক পরিষেবার কাজ শুরু করেন। এই ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ট্রেনটিকে আবার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলির মেরামতের কাজ চলে। এই ঘটনার জেরে আরা স্টেশনের ম্যানেজার এন.কে. রাইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার জেরে নয়াদিল্লি-হাওড়া রুটে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। বন্দে ভারত, বিভূতি এক্সপ্রেস, গান্ধীধাম, ক্যাপ্টেন এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি গরিব রথ এবং একাধিক প্যাসেঞ্জার ট্রেন ও উধনা এক্সপ্রেস দেরিতে চলতে থাকে। ঘটনার পর সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে রেললাইন মেরামত করে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন এবং কামরাগুলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

মহানন্দা এক্সপ্রেস ভোর ৪টা ১২ মিনিটের দিকে আরা রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছয়। এখান থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে ট্রেনের সিগন্যাল সম্ভবত সাসারাম লাইনের দিকে ঘুরে গিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল সেটা খোলসা করেনি রেল। যদিও বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পর সবটা সামনে আনা হবে বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনার পর ট্রেনটি এগিয়ে যায় এবং স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে আপ লাইনে লাইনচ্যুত হয়। ইঞ্জিন এবং তার পিছনে থাকা এসএলআর ও এইচ-১ কোচগুলি লাইন থেকে সরে যায় বলেই খবর। এরপরই রেলকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার ও স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেন।

তাছাড়া  মহানন্দা এক্সপ্রেস নয়াদিল্লি যাওয়ার লাইন না ধরে সাসারাম যাওয়ার লাইনে উঠে পড়েছিল বলে সূত্রের খবর। ভুল সিগন্যালের সম্ভাবনার কথাও এখানে উঠে আসছে। যদিও এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনার পরই সেখানে ছুটে আসেন রেলের আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়াররা। আরা স্টেশন ম্যানেজারের দাবি, ভুল সিগন্যালের জেরেই এই দুর্ঘটনা। তবে সাময়িক বরখাস্ত নিয়ে আরা স্টেশনের ম্যানেজার এন.কে. রাই বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমার কোনও দোষ নেই। আমার মতে চালকের কোনও গাফিলতি ছিল।’ আর পূর্ব-মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সরস্বতী চন্দ্র সংবাদমাধ্যমে জানান, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। লাইনচ্যুত কামরাগুলিকে সরানো হয়েছে। সবটা খতিয়ে দেখা হবে। রেলের কর্তারা ঘটনার কারিগরি দিকগুলি পরীক্ষা করছেন।