• facebook
  • twitter
Tuesday, 3 February, 2026

সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলা, ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানি

মঙ্গলবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা ছিল

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি। মঙ্গলবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য। মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা রাজ্যের দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখার সময় চেয়ে আবেদন করেন।

ইডিও পাল্টা হলফনামা দিতে চায় বলে জানান তুষার মেহতা। শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করে ইডি। ইডির আবেদনের বিষয়ে রাজ্যের মত জানতে চায় বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চ। রাজ্য তাতে সম্মতি জানায়। তার পরেই মামলা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়।   আগামী মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

Advertisement

ইডির মামলা খারিজের আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দেয় রাজ্য। হলফনামায় রাজ্য জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার কোনও মৌলিক অধিকার ইডির নেই। তল্লাশির চালানোর পদ্ধতি নিয়েও তা প্রশ্ন করা হয়। যে ভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, সেভাবে চালানো যায় না বলে উল্লেখ। আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস কেন দেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য।

Advertisement

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় (সাংবিধানিক প্রতিবিধান সংক্রান্ত মৌলিক অধিকার) অভিযোগ এনেছিল ইডি। রাজ্যের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা। হলফনামায় রাজ্য পাল্টা দাবি করে, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দপ্তরে ইডির অভিযান সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) পরিপন্থী।

গত ৮ জানুয়ারি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের  রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেকের দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। খবর পেয়ে সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে কিছু ফাইল নিয়ে আসেন। এরপর সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওইসব তাঁর দলের নথিপত্র।

তাতে নির্বাচনী রণকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। পুরনো কয়লা পাচার মামলায় ইডি তল্লাশি চালায় বলে দাবি করা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের কাজে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।  তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

তার পরেই তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সে দিনই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে ইডি। ৯ জানুয়ারির শুনানি আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি করে দিয়েছিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। আইপ্যাকের ঘটনায় ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল কলকাতা পুলিশ।

তবে গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের দায়ের করা তিনটি এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, মামলায় সব পক্ষকে নোটিস জারি করে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। দু’সপ্তাহের মধ্যে তাদের আদালতে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে তল্লাশির জায়গা এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুসারে সোমবার হলফনামা জমা দেয় রাজ্য।

Advertisement