• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

ধর্মান্তরিত হলেই ওবিসি সংরক্ষণ নয়, তামিলনাড়ু সরকারের নির্দেশিকা খারিজ করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই ওবিসি হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করা যাবে না। ২০২৪ সালে নির্দেশিকা জারি করেছিল তামিলনাড়ু সরকার।

ধর্মান্তরিত হলেই ওবিসি সংরক্ষণ নয়, তামিলনাড়ু সরকারের নির্দেশিকা খারিজ করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট

শুধু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই অনগ্রসর মুসলিম বা ওবিসি হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করা যাবে না। ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের ওবিসি মুসলিম হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা দিতে ২০২৪ সালে একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল তামিলনাড়ু সরকার। সেই নির্দেশিকা বাতিল করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট জানিয়েছে, এটি অসাংবিধানিক। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ধর্ম পরিবর্তন করা সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার হলেও, তার ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করা যায় না।

বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি পিবি বালাজির ডিভিশন বেঞ্চ এক ব্যক্তির আবেদন খারিজ করতে গিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে। ওই ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর নিজেকে ‘মুসলিম লেব্বাই’ সম্প্রদায়ের সদস্য দাবি করে অনগ্রসর মুসলিম হিসেবে শংসাপত্র চেয়েছিলেন। রাজস্ব বিভাগের এক সরকারি আধিকারিক সেই আবেদন নাকচ করলে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালত জানায়, কোনও ব্যক্তি হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করলে তিনি মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, কিন্তু শুধুমাত্র ধর্মান্তরের ভিত্তিতে তাঁকে অনগ্রসর মুসলিম হিসেবে গণ্য করা যাবে না। রায়ে বলা হয়েছে, ‘ধর্মান্তরিত ব্যক্তি কেবল মুসলিম, এর বেশি কিছু নন।’

এই রায়ের সঙ্গে আদালত তামিলনাড়ু সরকারের সেই নির্দেশিকাও বাতিল করে, যেখানে বলা হয়েছিল, দলিত, তফসিলি জাতি বা অন্যান্য পিছিয়ে পড়া হিন্দুরা ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁদের অনগ্রসর মুসলিমদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ওবিসি সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হবে।

আদালত আরও জানায়, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে নিজের পছন্দের ধর্ম গ্রহণ করার অধিকার দিয়েছে। তবে ধর্মান্তরের পর সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করলে তার সাংবিধানিক বৈধতা বিচার করা প্রয়োজন। সংরক্ষণের উদ্দেশ্য সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে অনগ্রসর শ্রেণির উন্নয়ন, শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে কোনও সুবিধা দেওয়া নয়।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তামিলনাড়ু সরকারও সমস্ত মুসলিম সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেনি। রাজ্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি মুসলিম সম্প্রদায়ই অনগ্রসর শ্রেণির স্বীকৃতি পায়। ফলে অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করলেই সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিকার তৈরি হয়ে যায় না।

আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, তিনি যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য, তা যদি সেই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংগঠন বা ‘জামাত’ লিখিতভাবে স্বীকার করে, তাহলে সরকারি কর্তৃপক্ষ বা আধিকারিক সেই স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না। তাঁর সেই যুক্তিও আদালত গ্রহণ করেনি। আদালতের মতে, সংরক্ষণের প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইন ও সংবিধান অনুযায়ীই হবে, কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শংসাপত্রের ভিত্তিতে নয়।