• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 18 July, 2026

নতুন দলেই স্বীকৃতি? কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে NCPI প্রধান হিসেবে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ রিজিজুর

সর্বদলীয় বৈঠকের আমন্ত্রণে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে এনসিপিআইয়ের চিফ হুইপ সম্বোধন কিরেন রিজিজুর। তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহী সাংসদ, দলত্যাগ বিরোধী আইন ও স্পিকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা নিয়ে বিশদে।

নতুন দলেই স্বীকৃতি? কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে NCPI প্রধান হিসেবে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ রিজিজুর

রিজিজু এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার (AI Enhanced)

চিঠির একটি সম্বোধনই আপাতত তোলপাড় ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) সর্বদলীয় বৈঠকের (All-Party Meeting) আমন্ত্রণপত্রে ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সম্বোধন করেছেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (Nationalist Citizens Party of India, সংক্ষেপে NCPI) চিফ হুইপ হিসেবে। বরাসতের (Barasat) এই সাংসদ, যিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) প্রতিনিধি, তাঁর নতুন পরিচয়ে কেন্দ্রীয় স্বীকৃতির এই ইঙ্গিতই এখন প্রশ্ন তুলছে, তা হলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা গিয়ে যে স্পিকারের কাছে তদ্বির করে এলেন, তার কী হল!

পিছনের গল্প

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে দলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে। লোকসভায় দলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই গত মাসে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যোগ দেন এনসিপিআইয়ে, যে দলটি এত দিন পরিচিতির বাইরেই ছিল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Sudip Bandyopadhyay) করা হয়েছে এই গোষ্ঠীর ফ্লোর লিডার, শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) ডেপুটি লিডার এবং ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার চিফ হুইপ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে দেখা করে আসন বিন্যাস ও সংসদ ভবনে দফতর বরাদ্দ নিয়েও তাঁরা আলোচনা সেরে ফেলেছেন।

দুই-তৃতীয়াংশের অঙ্ক

তৃণমূলের লোকসভা নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এই ‘বিলয়’কে আইনি বৈধতা দিতে নারাজ। দলত্যাগ বিরোধী আইনের দশম তপসিল (Tenth Schedule) অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একসঙ্গে দল ছাড়লে সুরক্ষা মেলে ঠিকই, তবে অভিষেকের যুক্তি, এই ছাড় প্রযোজ্য তখনই যখন মূল দলটাই আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য দলের সঙ্গে মিশে যায়, শুধু সাংসদরা সিদ্ধান্ত নিলে হয় না। তৃণমূল হিসেবে মূল দল এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মেশেনি, তাই এই ২০ জনের মিশে যাওয়ার দাবি ধোপে টেকে না বলেই তাঁর অভিযোগ। এই যুক্তিতে ভর করেই তিনি স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন ২০টি পৃথক অযোগ্যতার আবেদন।

স্পিকারের দরবার

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এনসিপিআই দলটি নথিভুক্ত হয়েছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে, ঠিকানা হিসেবে দেখানো হয়েছে হাওড়া জেলার সাঁকরাইলের একটি ঠিকানা। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা, শুধু সাংসদ বা বিধায়করা মিলে অন্য দলে যোগ দিলেই দলত্যাগ আইনের আওতা থেকে রেহাই মেলে না, দলের নেতৃত্বকেও সেই বিলয়ে সম্মতি দিতে হয়। অর্থাৎ বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পিকারের বিচারাধীন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

রিজিজুর চিঠিতে তবে কোন ইঙ্গিত?

ঠিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নির্দিষ্টভাবে এনসিপিআইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সম্বোধন করে বাদল অধিবেশনের (Monsoon Session) আগে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকাটা রাজনৈতিক অর্থেই তাৎপর্যপূর্ণ। স্পিকারের সিদ্ধান্ত বাকি থাকা অবস্থাতেই কেন্দ্র যেভাবে তাঁদের নতুন পরিচয়েই স্বীকৃতি দিয়ে ফেলল, তা তৃণমূলের আইনি লড়াইয়ের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। প্রশাসনিক সৌজন্য এবং রাজনৈতিক বার্তার মধ্যে এই সূক্ষ্ম ফারাকটাই আগামী দিনে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকতে চলেছে।

সংসদে কী হবে?

২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনের ঠিক আগের দিন, ১৯ জুলাই সকাল ১১টায় এই সর্বদলীয় বৈঠক বসছে সংসদ ভবন সংলগ্ন কক্ষে। এনসিপিআই গোষ্ঠীর প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া, দুটোই অধিবেশনের শুরুতেই সংসদের অন্দরে উত্তাপ বাড়াতে পারে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।